Posts

Showing posts from June, 2025

নবী মুহাম্মদ চাঁদ দুই ভাগ করেনি, চাঁদে আযান শোনা যায়নি, নীল আর্মস্ট্রং ইসলাম গ্রহণ করেনি

Image
ইসলামের কিছু অনুসারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত দাবি হলো যে নবী মুহাম্মদ অলৌকিকভাবে চাঁদ দুই টুকরো করে দেখিয়েছিলেন, যা নাকি তৎকালীন মক্কার মানুষ প্রত্যক্ষ করেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি হাস্যকর ও মিথ্যা গল্প: অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং নাকি চাঁদে ফাটল দেখেছেন, আজানের শব্দ শুনেছেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই দাবিগুলো শুধুমাত্র বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব নয়, বরং এতটাই লজ্জাজনক ও বেহায়াপনার পরিচায়ক যে এগুলো প্রচার করা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও নৈতিকতার প্রতি সরাসরি অপমান। এই নিবন্ধে আমরা এই দাবিগুলোর অসারতা বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং যুক্তির আলোকে খণ্ডন করব, এবং দেখাব কেন এই মিথ্যাগুলো ছড়ানো মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু অংশের অজ্ঞতা ও দায়িত্বহীনতার প্রকাশ। চাঁদ দিখণ্ডিতের দাবি: বিজ্ঞানের কাছে একটি অচল কল্পকাহিনী ইসলামের ধর্মীয় গ্রন্থে, বিশেষ করে কোরানের সূরা আল-কামার (৫৪:১-২)-এ বলা হয়েছে, “ঘটনা ঘনিয়ে এসেছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে” । এই আয়াতের ভিত্তিতে কিছু মুসলিম পণ্ডিত ও অনুসারী দাবি করেন যে নবী মুহাম্মদ একবার আঙুলের ইশারায় চাঁদ দুই টুকরো করে দেখিয়েছিলেন, যা মক্কার ...

কোরানে অন্য ধর্ম থেকে চুরি: জান্নাত, জাহান্নাম আর মৃত্যুর পরের জীবন

Image
ইসলাম দাবি করে যে মৃত্যুর পর জীবন, জান্নাত এবং জাহান্নাম তাদের নিজস্ব আবিষ্কার। কিন্তু এই ধারণাগুলো কি সত্যিই ইসলামের মৌলিক? নাকি ইসলাম প্রাচীন ধর্মগুলোর বিশ্বাস চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছে? ইসলামের আগে হাজার হাজার বছর ধরে অন্য ধর্মগুলো এই ধারণা প্রচার করছিল। ইসলামের কুরআনে মৃত্যুর পর জীবন, জান্নাত ও জাহান্নামের ধারণা বিভিন্ন সূরায় উল্লেখ আছে। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য সূরা ও আয়াত হলো: মৃত্যুর পর জীবন সম্পর্কে: সূরা আল-বাকারা (২:২৮), সূরা আল-মুমিনুন (২৩:১৫-১৬), সূরা আল-কিয়ামাহ (৭৫:৩-৪)। জান্নাত সম্পর্কে: সূরা আল-ইমরান (৩:১৫), সূরা আন-নিসা (৪:৫৭), সূরা আর-রাহমান (৫৫:৪৬-৭৮)। জাহান্নাম সম্পর্কে: সূরা আল-বাকারা (২:২০৬), সূরা আল-হজ্জ (২২:১৯-২২), সূরা আল-মুদ্দাসসির (৭৪:২৬-৩০)। এই আয়াতগুলোতে ইসলামের এই বিশ্বাসগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণিত, যদিও এগুলো প্রাচীন ধর্ম থেকে নকল বলে মনে হয়। আসুন, প্রমাণসহ দেখি কীভাবে ইসলাম এই বিশ্বাসগুলো নির্লজ্জভাবে কপি করেছে। ১. প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম (৩১০০ খ্রিস্টপূর্ব - ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব, আজ থেকে ৫১২৫-২৩২৫ বছর পুরনো): প্রাচীন মিশরীয়রা মৃত্যুর পর জীবনের ধারণায় বিশ্বাস...

কোরআনের সূরা হুদ, হিন্দু, ইহুদি আর গ্রীক ধর্ম থেকে চুরি করা

Image
বিখ্যাত সেই বন্যার কাহিনী বিশ্বের প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে একজন ব্যক্তি ঐশ্বরিক নির্দেশে, একটি নৌকা তৈরি করে মানুষ ও প্রাণীদের একটি বিশাল বন্যা থেকে রক্ষা করে। ইসলামের কুরআনে নূহের গল্প এই ধারার একটি উদাহরণ, কিন্তু এটি কি মৌলিক, নাকি পূর্ববর্তী ধর্মের গল্প থেকে চুরি করা? এই নিবন্ধে আমরা বন্যার কাহিনীগুলির সময়রেখা অনুসরণ করে দেখব যে কুরআনের নূহের গল্পটি মেসোপটেমিয়া, হিন্দু ধর্ম, ইহুদি ধর্ম এবং গ্রিক পুরাণের প্রাচীন গল্পের উপর নির্ভরশীল। এই প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে কুরআন মানুষের তৈরি, যা পূর্ববর্তী সংস্কৃতির জ্ঞানের সংমিশ্রণ। ইসলাম ধর্ম: ~৬১০–৬৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৪১৫–১৩৯৩ বছর আগে): কুরআনের সূরা হুদ (১১:২৫–৪৯) এবং অন্যান্য সূরায় নূহ একজন নবী হিসেবে বন্যা থেকে বিশ্বাসী ও প্রাণীদের রক্ষা করেন। এই গল্পটি ইহুদি জেনেসিস এবং মেসোপটেমিয়ার গল্পের সঙ্গে অসাধারণ মিল বহন করে। কুরআন মুহাম্মদের জীবনকালে (~৬৩২ খ্রিস্টাব্দ, ~১৩৯৩ বছর আগে) সংকলিত হয়, যখন আরব উপদ্বীপে ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় বসবাস করত। নূহের গল্পের বিবরণ, যেমন নৌকা তৈরি, বন্যা এবং প্রাণীদের রক্ষা, জেনেসিস থেকে প্রায় অবিক...

ইসলামে ফেরাউন সম্পর্কে মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি

Image
ফিরাউনের বিষয়টি ইসলামিক নানা অসত্য দাবির মধ্যে অন্যতম একটি। ইসলামে বহু সময় ধরে মিথ্যা মোজেজা বানিয়ে মানুষকে ধর্মে আকৃষ্ট করার প্রয়াস চালানো হয়ে আসছে—এটা মোটেও নতুন কিছু নয়। তবে বিষয়টি দীর্ঘ না করে চলুন দেখি, ফিরাউন নিয়ে মুসলিমরা কী কী অসত্য প্রচার করে থাকেন। ফিরাউন (Pharaoh) কোনো একক ব্যক্তির নাম নয়। প্রাচীন মিশরের রাজাদের একটি উপাধি ছিল "ফারাও", যেটাকে আরবরা বলত "ফিরাউন"। ইতিহাসে মিশরে মোট ৩৩২ জন রাজা শাসন করেছেন এবং প্রত্যেককেই ফারাও/ফেরাউন নামে ডাকা হতো। কোরআনে কোনো নির্দিষ্ট ফিরাউনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বরং শুধুই “ফেরাউন” বলা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আপনি শুধু "রাজা" বা "প্রধানমন্ত্রী" বললে কার কথা বুঝবেন? মুসলিমরা যে ফেরাউনের লাশকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার দাবি করে এবং যাকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছে বলে বলে, সেই ফেরাউন আসলে দ্বিতীয় রামেসিস (Ramesses II)। মুসলিমদের দাবি অনুসারে, ফিরাউনের দেহ লোহিত সাগরের তলদেশ থেকে পাওয়া গেছে। অথচ এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সমুদ্র বা নদীর নিচ থেকে কখনো কোনো মমি উদ্ধার হয়নি। দ্বি...

কোরআন মুহাম্মদের লেখা, কোনো আল্লাহর নয় (পর্ব ১)

Image
কোরআন মুহাম্মদ ও তাঁর কিছু সহকারী দ্বারা লিখিত, এতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুহাম্মদ ও তাঁর যুগের আরবরা যা জানত না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানত না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোরআনে নেই, আবার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয়গুলো বেশি আলোচনা করা হয়েছে; অনেক বিষয় বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কোরআনের বেশিরভাগ অংশে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধ, ভয় দেখানো ও গল্প বলা রয়েছে। নবীর জীবনের সময়কাল ও আরব অঞ্চল প্রাধান্য পেয়েছে; ফলে, কোরআন সব যুগ বা সব মানবজাতির জন্য নয়। কোরআনে আছে কেবলমাত্র যতটুকু মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা জানতেন। চলুন কিছু উদাহরণ দেখি। কোরআনে বিশ্বযুদ্ধের কথা নেই কেন? মানবজাতির জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, তাও উল্লেখ নেই? বদর, কদর, খন্দক ও সালফার যুদ্ধের কথা আছে কেন? কারণ সেই যুদ্ধগুলো মুহাম্মদের সঙ্গে জড়িত ছিল? আর বিশ্বযুদ্ধ ভবিষ্যতে ঘটবে বলে আল্লাহ জানতেন না, তাই তো? কোরাআনে আছে উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়ে আসমান ভ্রমণে যাওয়ার, কিন্তু কোরআনে কি আধুনিক প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ আছে? কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রকেট, বিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি, মোবাইল ফোন, টেস্টটিউব বেবি? তাহলে কিভাবে বলব...

বাংলাদেশের মাদ্রাসা জঙ্গি তৈরির কারখানা

Image
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোকে "জঙ্গি তৈরির কারখানা" বলে যে দাবি উঠেছে, তা ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের সমন্বয়ে উদ্ভূত। এটি মূলত এই আশঙ্কা থেকে উঠে এসেছে যে, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত কওমি মাদ্রাসাগুলো জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নিচে এই দাবির কারণ এবং পূর্ববর্তী ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ব্যাখ্যা করা হলো। দাবিটি কেন উঠেছে এই দাবি উদ্ভূত হয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণে: ঐতিহাসিক জঙ্গি কার্যক্রম: ১৯৯০-এর দশক থেকে, বাংলাদেশে হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামী (হুজি) এবং জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর মতো গোষ্ঠীর স্পরাদিক আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে। কিছু প্রাথমিক জঙ্গি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, যা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮৬ সালে মুসলিম মিল্লাত বাহিনী (এমএমবি) কিশোরগঞ্জে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে, যা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ১৯৮৯ সালে পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ে। উল্লেখযোগ্য ঘটনা: ২০০৫ সালে জেএমবি-র নেতৃত্বে সারাদেশে ৫০০টি বোমা হামলা এবং ২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর...

বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদ ও চরমপন্থীদের উত্থান

Image
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, নাস্তিক, লেখক, প্রকাশক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিদেশি ও এলজিবিটিকিউ কর্মীদের লক্ষ্য করে ইসলামী উগ্রবাদীদের বর্বর হামলার ঢেউ বয়ে গেছে। ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে; এর মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২২টি উল্লেখযোগ্য হত্যা এবং ২০১৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আরও ৮টি মৃত্যু ছাড়াও নির্যাতন, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে। আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে জন্ম নেওয়া এই সহিংসতা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা করতে বাংলাদেশের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা উন্মোচন করেছে। ২০১৩: শাহবাগ আন্দোলন ও সহিংসতার সূচনা ২০১৩ সালে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে এবং জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে শাহবাগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১৫ জানুয়ারি, নিজেকে "যুদ্ধংদেহী নাস্তিক" হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্লগার আসিফ মোহিউদ্দিনকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ঢাকার মতিঝিলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি, শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক ও ন...

ইসলামে সমকামীদের প্রতি বর্বরতা, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

Image
সমকামিতা, যা একই লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতি রোমান্টিক বা যৌন আকর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত, এটি কোনো অপরাধ নয়, এই কেবল একটি জৈবিক চাহিদা যা প্রতিটি স্বাভাবিক মানুষ অনুভব করে। একজন সমকামী জন্মথেকেই তার মানষিক ও শারীরিক চাহিদা ভিন্ন থাকে, এর জন্যতো আপনি তাঁকে দোষারোপ করতে পারেন না, কারণ এটি তার জৈবিক চাহিদা যা একদমই স্বাভাবিক। আধুনিক বিজ্ঞান সমকামিতাকে মানব যৌনতার একটি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হিসেবে বিবেচনা করে, যা জিনগত, হরমোনাল, এবং স্নায়বিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত। অপরদিকে ইসলামের ভ্রান্ত, হিংস্র ও পৈশাচিক কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক শিক্ষাগুলি সাধারণত সমকামী কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে এবং এর জন্য শাস্তি নির্ধারণ করে, যা বেত্রাঘাত থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রমান করে ইসলাম কোনো আল্লাহ প্রদত্ত বাণী নয় বরং কিছু বর্বর মানুষের দ্বারা লিখিত, মুহাম্মদ তার মধ্যে অন্যতম। কুরআনে নবী লুত -এর কাহিনী উল্লেখ করে, যার জাতি সমকামী আচরণের কারণে ধ্বংস হয়। সুরা হুদ, আয়াত ৮২ তে লুতের সম্প্রদায়কে ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে, অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছল, এরপর যখন আমার সিদ্ধান্ত কার্যকর হল, তখন আমি জনপদের উপরিভ...