কোরআন মুহাম্মদের লেখা, কোনো আল্লাহর নয় (পর্ব ১)
কোরআন মুহাম্মদ ও তাঁর কিছু সহকারী দ্বারা লিখিত, এতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুহাম্মদ ও তাঁর যুগের আরবরা যা জানত না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানত না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোরআনে নেই, আবার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয়গুলো বেশি আলোচনা করা হয়েছে; অনেক বিষয় বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কোরআনের বেশিরভাগ অংশে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধ, ভয় দেখানো ও গল্প বলা রয়েছে। নবীর জীবনের সময়কাল ও আরব অঞ্চল প্রাধান্য পেয়েছে; ফলে, কোরআন সব যুগ বা সব মানবজাতির জন্য নয়। কোরআনে আছে কেবলমাত্র যতটুকু মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা জানতেন। চলুন কিছু উদাহরণ দেখি।
কোরআনে বিশ্বযুদ্ধের কথা নেই কেন? মানবজাতির জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, তাও উল্লেখ নেই? বদর, কদর, খন্দক ও সালফার যুদ্ধের কথা আছে কেন? কারণ সেই যুদ্ধগুলো মুহাম্মদের সঙ্গে জড়িত ছিল? আর বিশ্বযুদ্ধ ভবিষ্যতে ঘটবে বলে আল্লাহ জানতেন না, তাই তো?
কোরাআনে আছে উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়ে আসমান ভ্রমণে যাওয়ার, কিন্তু কোরআনে কি আধুনিক প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ আছে? কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রকেট, বিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি, মোবাইল ফোন, টেস্টটিউব বেবি? তাহলে কিভাবে বলবেন কোরআন সব সময়ের জন্য?
আজকের মুসলিম সন্ত্রাসীরা কোটি টাকার মেশিনগান এবং রকেট লঞ্চার বহন করে, কিন্তু জুতা কেনার টাকা নেই! কোরআনে এসব আধুনিক অস্ত্রের কথা আছে? যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, পারমাণবিক বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, এসব কিছুর নাম নেই কেন? আল্লাহ তলোয়ারের কথা বলতে ভুলেনি।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং (বিশ্ব উষ্ণায়ন) বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছে; ঢাকা, কলকাতা, মালদ্বীপ, সিডনি, লন্ডন, নিউ ইয়র্কসহ বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে। একদিন মানব অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, কোরআনে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি কথাও বলা হয়নি। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কথা না থাকলেও জাহান্নামের আগুনের কথা ভুলে যায়নি, বড়োই মজাদার।
কোরআনে মেরু অঞ্চল (বরফে ঢাকা অঞ্চল) নিয়ে কিছুই বলা হয়নি! কানাডা, নরওয়ে ও রাশিয়ার কিছু শহরে দিনের ও রাতের সময়কাল মাসব্যাপী হতে পারে। সেই অঞ্চলে নামাজ ও রোজার নিয়ম কী? আপনাকে সময় অনুমান করে নিতে হবে, তাই তো? কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কোরআনে উল্লেখ করা হয়নি কেন? কারণ আপনাদের অজ্ঞ নবী মুহাম্মদ জানত না পৃথিবীতে এমন জায়গাও আছে যেখানে একটি দিন ছয় মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে! আরব অঞ্চল থেকে এটা কল্পনাই করা যায় না। যদি মুহাম্মদ মেরু অঞ্চল সম্পর্কে জানত, তাহলে নিশ্চয়ই সে তাঁর ওহি লেখকদের বলত। মেরু অঞ্চল নেই, কিন্তু আরব মরুভূমির কথা বহু আয়াতে আছে।
কোরআন আরবিতে লেখা। পৃথিবীর মাত্র ৪% মানুষ আরবি ভাষায় কথা বলে। বাকি ৯৬% আরবি বোঝে না; ফলে এই ৯৬% সরাসরি কোরআনের উপকার পায় না। তাদের অনুবাদের উপর নির্ভর করতে হয়। আল্লাহ চাইলে আরবিকে আন্তর্জাতিক ভাষা করতে পারত, তাহলে সবচেয়ে বেশি মানুষের বোঝার উপযোগী হতো, কিন্তু সে ক্ষমতা তো নাই।
তাই বলি, কোরআন কোন আল্লাহর বাণী নয়, মুহাম্মদ ও তাঁর সহচররা তাঁদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কোরআন লেখার ক্ষমতা রাখত না। যদি কোরআন সর্বজ্ঞ আল্লাহর তরফ থেকে আসত, তাহলে সে নিশ্চয়ই এমন ভাষায় কোরআন নাজিল করত যা সবচেয়ে বেশি মানুষের বোঝার উপযোগী হতো।
ডাইনোসর পৃথিবী ও প্রাণীদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যেমন এখন মানুষ পৃথিবী শাসন করে, একসময় ডাইনোসর করত। অথচ কোরআনে ডাইনোসর নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। ফসিল স্টাডির মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রাণী সম্পর্কে জানার উপায় মুহাম্মদের ছিল না। তাই, কোরআনে ডাইনোসরের অনুপস্থিতি স্বাভাবিক। একটি আয়াতেও ডাইনোসরের উল্লেখ নেই, কিন্তু উটের কথা আছে ১৯টি আয়াতে, কারণ মরুর ডাকাত মুহাম্মদ উট ছাড়া আর কিছু দেখে নাই।
আল্লাহ নাকি পৃথিবীতে প্রায় এক লাখ নবী পাঠিয়েছেন। কোরআনে মাত্র ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তারা সবাই মধ্যপ্রাচ্যের। যদিও কোরআনে বলা আছে আল্লাহ প্রতিটি জাতির কাছে নবী পাঠিয়েছেন, এই কথাটি কেবল বাহ্যিক বক্তব্য মাত্র। কেন কোরআনে উল্লিখিত সব নবী মধ্যপ্রাচ্যের? কেন পৃথিবীর অন্য অঞ্চল থেকে একজন নবীর নামও উল্লেখ করা হয়নি? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, চীন, জাপান কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশ কি কোনো নবী প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি?
এখন আমরা সবাই জানি আমাদের মহাবিশ্ব কত বিশাল। সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লাখ গুণ বড়। আমাদের সৌরজগৎ সূর্য এবং অন্তত আটটি গ্রহ নিয়ে গঠিত। আমাদের গ্যালাক্সি, মিল্কিওয়ে, প্রায় ৪০০ বিলিয়ন সৌরজগৎ নিয়ে গঠিত। আলোর গতিতেও মিল্কিওয়ের প্রান্তে পৌঁছাতে ১ লক্ষ বছর লাগে!
কোরআনে এই বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে কেন স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই? সে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে কিছুই বলেনি, কেবল পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের কথা বলেছেন! তাও আবার পুরো পৃথিবী নয়; আরব অঞ্চলই প্রাধান্য পেয়েছে। মুহাম্মদের আল্লাহ কি কেবল নবী যতটুকু জানত ততটুকুই জানত? তার বাইরে কিছু না?
সব সময় ও সব মানবজাতির জন্য লিখিত একটি বইয়ে পৃথিবীর বড় বড় ধর্মের নামই নেই কেন? যেমন হিন্দু ধর্ম, চীনা ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম—এসবের কোনো আয়াত নেই। অথচ শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মগুলোর (ইহুদী, খ্রিষ্টান) কথা বলা হয়েছে, এমনকি বিলুপ্ত আরব ধর্ম সাবিয়ানিজম তিনটি আয়াতে উল্লেখ আছে। কেন?
কারণ মূর্খ মুহাম্মদ কেবল তাঁর সময়ের আরব অঞ্চলের ধর্মগুলোর কথাই জানত। সে জানত না পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের মানুষ কী ধর্ম মানে। যদি জানত, তাহলে নিশ্চয়ই হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের নাম উল্লেখ করে জাহান্নামের হুমকি দিয়ে রাখতো।
কোরআনে মোট ৩৫টি প্রাণীর উল্লেখ আছে—পিপিলি, মৌমাছি, উট, গরু, কুকুর, সাপ, ঘোড়া, গাধা ইত্যাদি। মজার বিষয় হলো, এরা সবাই আরব অঞ্চলে পাওয়া যায়। এমন কোনো প্রাণীর উল্লেখ নেই যা আরবে পাওয়া যায় না। কীভাবে বা কেন থাকবে? সাত সমুদ্র আর তের নদী পার হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাঙ্গারু, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইন দেখা সম্ভব ছিল না। আর হ্যাঁ, সমুদ্রে থাকা মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাতির কথা কোরআনে থাকবে বলে আশা করাও বোকামি।
আল্লাহ এক আয়াতে বলেছে সমুদ্রের সব প্রাণী হালাল। কোরআনের কথা শুনে সব সমুদ্রজীব খাওয়া শুরু করলে আপনি নিশ্চিতভাবে মারা যাবেন। পারলে কেউ জেলিফিশ খেয়ে দেখান তো।
পুরো কোরআন অনেক অপ্রয়োজনীয়/তুচ্ছ/অমানবিক আয়াতে ভরা। উদাহরণস্বরূপ: পুরো কোরআনে ৩০০ আয়াতে আল্লাহকে ভয় করার কথা বলা হয়েছে, ৫০০ আয়াতে জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৪০০ আয়াতে ইহুদি কাফিরদের ঘৃণা করতে বলা হয়েছে এবং ১৬৪ আয়াতে ইসলামিক জিহাদের আহ্বান জানানো হয়েছে! এগুলো মরুভূমির ডাকাত মুহাম্মদের পক্ষেই লেখা সম্ভব।
পরের পর্ব আরো মজাদার হবে।
.jpg)
Comments
Post a Comment