কোরানে অন্য ধর্ম থেকে চুরি: জান্নাত, জাহান্নাম আর মৃত্যুর পরের জীবন

ইসলাম দাবি করে যে মৃত্যুর পর জীবন, জান্নাত এবং জাহান্নাম তাদের নিজস্ব আবিষ্কার। কিন্তু এই ধারণাগুলো কি সত্যিই ইসলামের মৌলিক? নাকি ইসলাম প্রাচীন ধর্মগুলোর বিশ্বাস চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছে? ইসলামের আগে হাজার হাজার বছর ধরে অন্য ধর্মগুলো এই ধারণা প্রচার করছিল।

ইসলামের কুরআনে মৃত্যুর পর জীবন, জান্নাত ও জাহান্নামের ধারণা বিভিন্ন সূরায় উল্লেখ আছে। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য সূরা ও আয়াত হলো:

মৃত্যুর পর জীবন সম্পর্কে: সূরা আল-বাকারা (২:২৮), সূরা আল-মুমিনুন (২৩:১৫-১৬), সূরা আল-কিয়ামাহ (৭৫:৩-৪)। জান্নাত সম্পর্কে: সূরা আল-ইমরান (৩:১৫), সূরা আন-নিসা (৪:৫৭), সূরা আর-রাহমান (৫৫:৪৬-৭৮)। জাহান্নাম সম্পর্কে: সূরা আল-বাকারা (২:২০৬), সূরা আল-হজ্জ (২২:১৯-২২), সূরা আল-মুদ্দাসসির (৭৪:২৬-৩০)।

এই আয়াতগুলোতে ইসলামের এই বিশ্বাসগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণিত, যদিও এগুলো প্রাচীন ধর্ম থেকে নকল বলে মনে হয়। আসুন, প্রমাণসহ দেখি কীভাবে ইসলাম এই বিশ্বাসগুলো নির্লজ্জভাবে কপি করেছে।

১. প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম (৩১০০ খ্রিস্টপূর্ব - ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব, আজ থেকে ৫১২৫-২৩২৫ বছর পুরনো):

প্রাচীন মিশরীয়রা মৃত্যুর পর জীবনের ধারণায় বিশ্বাস করত। তাদের "মৃত্যুর বই" (Book of the Dead, ১৫৫০ খ্রিস্টপূর্ব) এবং পিরামিডের শিলালিপি (২৪০০ খ্রিস্টপূর্ব) এই ধারণার উল্লেখ আছে , মৃতের আত্মা ওসিরিসের বিচারের মুখোমুখি হয়। হৃদয়ের ওজন পাল্লায় মাপা হত; পাপীদের আত্মা অমমিত নামক দানব গ্রাস করত, আর নেককাররা "আরু" নামক স্বর্গে যেত। এই ধারণা কি ইসলামের জান্নাত-জাহান্নামের হুবহু নকল নয়? ইসলামের জন্মের ৩৭০০ বছর আগে মিশরীয়রা এই বিশ্বাস পোষণ করছিল। ইসলাম এসে এই প্রাচীন ধারণা চুরি করে নিজের বলে চালিয়েছে!

২. জরথুস্ট্রবাদ (১৫০০ খ্রিস্টপূর্ব - ৫০০ খ্রিস্টপূর্ব, আজ থেকে ৩৫২৫-২৫২৫ বছর পুরনো):

জরথুস্ট্রবাদে স্বর্গ (বেহেশত) এবং নরক (দোজখ) এর ধারণা ছিল স্পষ্ট। আভেস্তা, জরথুস্ট্রের পবিত্র গ্রন্থ, ১০০০ খ্রিস্টপূর্ব) বলে, মৃত্যুর পর আত্মা চিনভাত সেতু পার হয় (ইসলাম পুলসিরাত নামে নকল চালিয়ে দেয়)। নেককাররা আহুরা মাজদার স্বর্গে যায়, আর পাপীরা নরকে শাস্তি পায়। এই ধারণা ইসলামের জান্নাত-জাহান্নামের সাথে একদম মিলে যায়। ইসলামের জন্মের ১২০০-২০০০ বছর আগে জরথুস্ট্রবাদ এই বিশ্বাস প্রচার করছিল। ইসলাম কি তবে জরথুস্ট্রবাদের কাছ থেকে এই ধারণা চুরি করে নিয়েছে? কোনো লজ্জা ছাড়াই এই প্রাচীন ধর্মের বিশ্বাস নকল করেছে!

৩. হিন্দু ধর্ম (২০০০ খ্রিস্টপূর্ব - বর্তমান, আজ থেকে ৪০২৫ বছর পুরনো):

হিন্দু ধর্মের ঋগ্বেদ (১৫০০ খ্রিস্টপূর্ব) এবং উপনিষদে (৮০০ খ্রিস্টপূর্ব) কর্মফলের ভিত্তিতে স্বর্গ (স্বর্গলোক) এবং নরক (নরকলোক) এর ধারণা স্পষ্ট। মহাভারত (৪০০ খ্রিস্টপূর্ব) এবং ভগবদ্গীতায় বলা আছে, ভালো কর্মের ফলে স্বর্গ এবং খারাপ কর্মের ফলে নরক পাওয়া যায়। ইসলামের জান্নাত-জাহান্নামের ধারণা কি এখান থেকে সরাসরি নকল করা হয়নি? হিন্দু ধর্ম ইসলামের হাজার হাজার বছর আগে এই বিশ্বাস প্রচার করছিল। ইসলাম এসে হিন্দু ধর্মের এই প্রাচীন ধারণা হুবহু চুরি করেছে!

৪. প্রাচীন গ্রিক ধর্ম (১২০০ খ্রিস্টপূর্ব - ৪র্থ শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব, আজ থেকে ৩২২৫-২৪২৫ বছর পুরনো):

হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসি (৮ম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব) এবং প্লেটোর লেখায় (৪র্থ শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব) হেডিস নামক পাতাললোক এবং এলিসিয়ান ফিল্ডস নামক স্বর্গের ধারণা ছিল। ভালো মানুষ এলিসিয়ান ফিল্ডসে যেত, আর পাপীরা হেডিসে শাস্তি পেত। ইসলামের ১৮০০ বছর আগে গ্রিকরা এই ধারণা প্রচার করছিল। ইসলাম কি তবে গ্রিক ধর্মের কাছ থেকেও এই ধারণা চুরি করেছে?

৫. বৌদ্ধ ধর্ম (৬ষ্ঠ শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব, আজ থেকে ২৬২৫ বছর পুরনো):

বৌদ্ধ ধর্মে, ত্রিপিটক (৪র্থ শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব) অনুসারে, কর্মের ফলে মৃত্যুর পর স্বর্গীয় লোক বা নরকলোক পাওয়া যায়। বুদ্ধের শিক্ষায় ৬টি গতি (লোক) আছে, যার মধ্যে দেবলোক (স্বর্গ) এবং নরকলোক অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের জান্নাত-জাহান্নাম কি এই ধারণার সরাসরি নকল নয়? বৌদ্ধ ধর্ম ইসলামের ১২০০ বছর আগে এই বিশ্বাস প্রচার করছিল। ইসলাম কি তবে বৌদ্ধ ধর্মের কাছ থেকে এই ধারণা চুরি করেছে?

৬. ইহুদি ধর্ম (২০০০ খ্রিস্টপূর্ব - বর্তমান, আজ থেকে ৪০২৫ বছর পুরনো):

ইহুদি ধর্মে প্রাথমিকভাবে শেওল নামে মৃত্যুর পরের জগতের ধারণা ছিল (তোরাহ, ১০০০ খ্রিস্টপূর্ব)। পরবর্তীতে, দানিয়েলের পুস্তকে (২য় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব) স্বর্গ এবং নরকের ধারণা স্পষ্ট হয়। ইসলামের ৮০০ বছর আগে ইহুদি ধর্ম এই বিশ্বাস প্রচার করছিল। ইসলাম কি তবে ইহুদি ধর্মের কাছ থেকে এই ধারণা চুরি করে নিয়েছে? এটা তো স্পষ্ট চুরি!

৭. খ্রিস্টধর্ম (১ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দ, আজ থেকে ২০২৫ বছর পুরনো):

খ্রিস্টধর্মের নিউ টেস্টিমেন্ট (১ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দ) স্বর্গ এবং নরকের ধারণা অত্যন্ত স্পষ্ট। যিশুর শিক্ষায় (ম্যাথু ২৫:৪৬) বলা আছে, নেককাররা স্বর্গে এবং পাপীরা চিরন্তন নরকে যাবে। ইসলামের মাত্র ৬০০ বছর আগে খ্রিস্টধর্ম এই ধারণা প্রচার করছিল। ইসলাম কি তবে খ্রিস্টধর্মের কাছ থেকে এই বিশ্বাস নির্লজ্জভাবে কপি করেছে?

ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম এই তিনটা আব্রাহামিক ধর্ম, মানে আব্রাহাম (ইব্রাহিম) থেকে এই তিন ধর্মের উৎপত্তি। ইসলাম হলো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা, আগের দুইটা যা করেছে, ইসলাম তাই কপি মেরে দিয়েছে যা মুহাম্মদের কৃতকর্ম।

শেষকথা: ইসলামের জান্নাত-জাহান্নাম এবং মৃত্যুর পর জীবনের ধারণা কোনো নতুন বা মৌলিক বিশ্বাস নয়। প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম, জরথুস্ট্রবাদ, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম এবং এমনকি গ্রিক ধর্ম—সবাই ইসলামের হাজার হাজার বছর আগে এই ধারণাগুলো প্রচার করছিল। পবিত্র গ্রন্থ, শিলালিপি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এই সত্য প্রকাশ করে। ইসলাম (৬১০ খ্রিস্টাব্দ, আজ থেকে মাত্র ১৪১৫ বছর পুরনো) এসে এই প্রাচীন ধর্মগুলোর বিশ্বাস নির্লজ্জভাবে চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছে। এই ধারণাগুলো ৫০০০ বছরেরও বেশি পুরনো, আর ইসলাম মাত্র এই প্রাচীন ধারণাগুলো কপি করে নিজেকে আসল বলে দাবি করছে। এটা কি তবে স্পষ্ট চুরি নয়?

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন