কোরআনের সূরা হুদ, হিন্দু, ইহুদি আর গ্রীক ধর্ম থেকে চুরি করা

বিখ্যাত সেই বন্যার কাহিনী বিশ্বের প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে একজন ব্যক্তি ঐশ্বরিক নির্দেশে, একটি নৌকা তৈরি করে মানুষ ও প্রাণীদের একটি বিশাল বন্যা থেকে রক্ষা করে। ইসলামের কুরআনে নূহের গল্প এই ধারার একটি উদাহরণ, কিন্তু এটি কি মৌলিক, নাকি পূর্ববর্তী ধর্মের গল্প থেকে চুরি করা?

এই নিবন্ধে আমরা বন্যার কাহিনীগুলির সময়রেখা অনুসরণ করে দেখব যে কুরআনের নূহের গল্পটি মেসোপটেমিয়া, হিন্দু ধর্ম, ইহুদি ধর্ম এবং গ্রিক পুরাণের প্রাচীন গল্পের উপর নির্ভরশীল। এই প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে কুরআন মানুষের তৈরি, যা পূর্ববর্তী সংস্কৃতির জ্ঞানের সংমিশ্রণ।

ইসলাম ধর্ম: ~৬১০–৬৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৪১৫–১৩৯৩ বছর আগে):
কুরআনের সূরা হুদ (১১:২৫–৪৯) এবং অন্যান্য সূরায় নূহ একজন নবী হিসেবে বন্যা থেকে বিশ্বাসী ও প্রাণীদের রক্ষা করেন। এই গল্পটি ইহুদি জেনেসিস এবং মেসোপটেমিয়ার গল্পের সঙ্গে অসাধারণ মিল বহন করে। কুরআন মুহাম্মদের জীবনকালে (~৬৩২ খ্রিস্টাব্দ, ~১৩৯৩ বছর আগে) সংকলিত হয়, যখন আরব উপদ্বীপে ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় বসবাস করত। নূহের গল্পের বিবরণ, যেমন নৌকা তৈরি, বন্যা এবং প্রাণীদের রক্ষা, জেনেসিস থেকে প্রায় অবিকল নকল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কুরআনের রচয়িতারা পূর্ববর্তী ধর্মের গল্পগুলি শুনেছিলেন এবং সেগুলি তাদের নিজস্ব বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তার মানে কুরআন মানুষের (মুহাম্মদ) দারা লিখিত।

আসুন দেখি কে কার থেকে কপি করেছে :

১. মেসোপটেমিয়ার কাহিনী (উত্নাপিশতিম, গিলগামেশের মহাকাব্য):
সময়: ~২১০০–১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (৪১২৫–৩৮২৫ বছর আগে)
বন্যার প্রাচীনতম লিখিত গল্পটি পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ার গিলগামেশের মহাকাব্য-এ। এতে উত্নাপিশতিম, দেবতা ইয়ার নির্দেশে, একটি নৌকা তৈরি করেন এবং তার পরিবার ও প্রাণীদের নিয়ে একটি বিশাল বন্যা থেকে বাঁচেন। এই গল্পটি কিউনিফর্ম ট্যাবলেটে (~১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) লিপিবদ্ধ, তবে সুমেরীয় গল্পগুলি, যেমন এরিডু জেনেসিস (~২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~৪৩২৫ বছর আগে), আরও পুরনো মৌখিক ঐতিহ্যের ইঙ্গিত দেয়। এই গল্পে নৌকা, বন্যা এবং প্রাণীদের রক্ষার বিবরণ কুরআনের নূহের গল্পের সঙ্গে আকর্ষণীয়ভাবে মিলে যায়, যা প্রমাণ করে যে ইসলামের অনেক আগে এই ধরনের কাহিনী প্রচলিত ছিল।

২. হিন্দু ধর্ম (মনু ও মৎস্য)
সময়: ~১৫০০–১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (৩৫২৫–৩০২৫ বছর আগে)
হিন্দু ধর্মের মৎস্য পুরাণ এবং শতপথ ব্রাহ্মণ (~৮০০–৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~২৮২৫–২৭২৫ বছর আগে) বন্যার একটি গল্প বর্ণনা করে। বিষ্ণুর মৎস্য অবতার মনুকে বন্যার সতর্কবার্তা দেন, এবং মনু একটি নৌকা তৈরি করে নিজেকে, ঋষিদের এবং জীবের বীজ রক্ষা করেন। ঋগ্বেদ (~১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~৩৫২৫ বছর আগে) এই গল্প উল্লেখ না করলেও, বৈদিক মৌখিক ঐতিহ্যে এর শিকড় রয়েছে। পুরাণগুলি পরে (~৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ–৫০০ খ্রিস্টাব্দ, ~২৩২৫–১৫২৫ বছর আগে) লিখিত হয়। এই গল্পটি মেসোপটেমিয়ার সমসাময়িক এবং ইসলামের জন্মের অনেক আগে, যা দেখায় যে বন্যার ধারণা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে ছিল।

৩. ইহুদি ধর্ম (নোহ, জেনেসিস)
সময়: ~১০০০–৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (৩০২৫–২৫২৫ বছর আগে)
ইহুদি ধর্মের তোরাহ-র জেনেসিস ৬–৯-এ নোহ, ঈশ্বরের নির্দেশে একটি জাহাজ তৈরি করেন, যাতে তার পরিবার ও প্রাণীরা দুর্নীতিগ্রস্ত পৃথিবী ধ্বংসকারী বন্যা থেকে বাঁচে। এই গল্পটি সম্ভবত ব্যাবিলনীয় নির্বাসনের সময় (~৫৮৭–৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~২৬১২–২৫৬৪ বছর আগে) লিখিত হয়, যদিও কিছু উৎস (~৯৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~২৯৭৫ বছর আগে) পুরনো বলে মনে করে। ডেড সি স্ক্রলস (~৩য় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~২৩২৫ বছর আগে) এর প্রাচীনত্ব নিশ্চিত করে। জেনেসিসের গল্প মেসোপটেমিয়ার উত্নাপিশতিমের গল্পের সঙ্গে মিলে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইহুদিরা ব্যাবিলনে এই গল্প শিখেছিল। কুরআনের নূহের গল্প জেনেসিসের প্রায় অভিন্ন, যা প্রমাণ করে যে ইসলাম এই ইহুদি কাহিনী থেকে চুরি করেছে।

৪. গ্রিক পুরাণ (ডিউক্যালিয়ন ও পিরা)
সময়: ~৮০০–৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (২৮২৫–২৭২৫ বছর আগে)
গ্রিক পুরাণে, ডিউক্যালিয়ন প্রোমিথিউসের সতর্কবার্তায় একটি জাহাজ তৈরি করেন এবং জিউসের পাঠানো বন্যা থেকে তার স্ত্রী পিরার সঙ্গে বাঁচেন। এই গল্প পিন্ডারের ওলিম্পিয়ান ওডস (~৫ম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~২৫২৫ বছর আগে) এবং ওভিডের মেটামরফোসিস (~৮ খ্রিস্টাব্দ, ~২০১৭ বছর আগে) এ পাওয়া যায়। মৌখিক ঐতিহ্য গ্রিক অন্ধকার যুগ (~১১০০–৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, ~৩১২৫–২৮২৫ বছর আগে) থেকে শুরু। এই গল্পটি ইসলামের আগে প্রচলিত ছিল, যা বন্যার ধারণার বিস্তৃত প্রকৃতি দেখায়।

কুরআন কি মানুষের তৈরি?

নূহের গল্পের সময়রেখা স্পষ্টভাবে দেখায় যে এই কাহিনী ইসলামের অনেক আগে মেসোপটেমিয়ায় (~৪১২৫–৩৮২৫ বছর আগে) এবং ইহুদি ধর্মে (~৩০২৫–২৫২৫ বছর আগে) প্রচলিত ছিল। কুরআন (~১৪১৫–১৩৯৩ বছর আগে) এই গল্পটি গ্রহণ করে, কিন্তু নতুন কোনো বিবরণ যোগ করে না যা পূর্ববর্তী গল্পের বাইরে। আরব উপদ্বীপে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপস্থিতি এবং মেসোপটেমিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাব ইঙ্গিত দেয় যে কুরআনের রচয়িতারা এই গল্পগুলি শুনেছিলেন এবং তাদের ধর্মীয় বর্ণনায় ব্যবহার করেছিলেন। এই ধারাবাহিক ধারণা প্রমাণ করে যে কুরআন ঐশ্বরিক নয়, বরং মানুষের তৈরি, যা প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতির গল্পের সংকলন। বন্যার কাহিনী মেসোপটেমিয়ার উত্নাপিশতিম থেকে হিন্দু মনু, ইহুদি নোহ, গ্রিক ডিউক্যালিয়ন, ইসলামের নূহ পর্যন্ত বিস্তৃত। সময়রেখা দেখায় যে মেসোপটেমিয়ার গল্প প্রাচীনতম (~৪১২৫–৩৮২৫ বছর আগে), তারপর হিন্দু (~৩৫২৫–৩০২৫ বছর আগে), ইহুদি (~৩০২৫–২৫২৫ বছর আগে), গ্রিক (~২৮২৫–২৭২৫ বছর আগে), ইসলাম (~১৪১৫–১৩৯৩ বছর আগে)। কুরআনের নূহের গল্প পূর্ববর্তী ধর্মের গল্পের প্রতিধ্বনি, যা প্রমাণ করে যে এটি মানুষের তৈরি গ্রন্থ, যা প্রাচীন সংস্কৃতির জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?