জঙ্গী নবী মুহাম্মদের কর্মকান্ড

ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রচার করা হলেও, তার মূলে রয়েছে সহিংসতা, আক্রমণাত্মকতা এবং সন্ত্রাসের উপাদানসমূহ, যা মুহাম্মদের জীবনী, তার নির্দেশিত কর্মকাণ্ড এবং ইসলামী গ্রন্থসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। এই নিবন্ধে আমি প্রমাণ করব যে, কেন মুহাম্মদকে একজন সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত করা যায়, কারণ তার কর্মকাণ্ডে সন্ত্রাসের সংজ্ঞা, যেমন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সহিংসতা ব্যবহার করে ভয়ের সৃষ্টি করা, বিরোধীদের দমন করা এবং নিরপরাধদের উপর আক্রমণ পুরোপুরি মিলে যায়। এই দাবির সমর্থনে আমি ইসলামী উৎসসমূহ যেমন কুরআন, হাদিস, সীরাত (মুহাম্মদের জীবনী) এবং আধুনিক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণসমূহ থেকে উদাহরণ তুলে ধরব, যা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পর্যালোচিত।  

সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা এবং মুহাম্মদের সাথে তার যোগসূত্র

প্রথমে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা দরকার। সন্ত্রাসবাদ হলো এমন সহিংস কর্মকাণ্ড যা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শগত উদ্দেশ্যে নিরপরাধ ব্যক্তিদের উপর চালানো হয়, যাতে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, এটি শুধুমাত্র সশস্ত্র আক্রমণ নয়, বরং গুপ্তহত্যা, গণহত্যা, লুটতরাজ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু দমনও অন্তর্ভুক্ত। মুহাম্মদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা এই সংজ্ঞায় পুরোপুরি মিলে যায়। মক্কায় থাকাকালীন তিনি শান্তিপূর্ণ প্রচার করলেও, মদীনায় চলে যাওয়ার পর (হিজরতের পর) তার ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে তিনি যুদ্ধ, হত্যা এবং লুটতরাজের পথ অবলম্বন করেন। এগুলো কোনো রক্ষণাত্মক যুদ্ধ নয়, বরং আক্রমণাত্মক এবং সন্ত্রাসমূলক, যা অর্থনৈতিক লাভ এবং ধর্মীয় প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে চালানো হয়।

সূরা মায়িদা, আয়াত ৩৩, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

কুরআনের সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৫-এ বলা হয়েছে: "পবিত্র মাসগুলো অতিক্রম হয়ে গেলে মুশরিকদের যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করো, তাদের ধরো, ঘেরাও করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে ওঁত পেতে বসো।" এটি স্পষ্টভাবে অমুসলিমদের উপর অতর্কিত আক্রমণের নির্দেশ, যা আধুনিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কৌশলের সাথে মিলে যায়।

সূরা আত-তাওবা, আয়াত ২৯: "যারা আল্লাহতে বিশ্বাস করে না... তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা জিজিয়া দিয়ে অধীনতা স্বীকার করে।" এটি অমুসলিমদের (বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের) দমন করার জন্য কর বসানোর নির্দেশ, যা সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি উদাহরণ।

সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৫১: "আমরা কাফিরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করব," যা অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা এবং সহিংসতা উস্কে দেয়।  

মুসলিমরা প্রায়শই দাবি করেন যে এই আয়াতগুলো প্রসঙ্গভিত্তিক এবং শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক যুদ্ধের জন্য, কিন্তু ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখায় যে মুহাম্মদের অভিযানগুলো আক্রমণাত্মক ছিল, যা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে চালানো হয়। এই যুক্তিকে খণ্ডন করে বলা যায় যে, যদি এগুলো শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক হয়, তাহলে কেন অমুসলিম গোত্রসমূহকে আগাম আক্রমণ করা হয়েছে? এটি স্পষ্ট যে এই নির্দেশাবলী আধুনিক ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রেরণা, যারা মুহাম্মদের অনুসরণ করে অমুসলিমদের উপর আক্রমণ চালায়।

হত্যাকাণ্ড এবং গুপ্তহত্যা: সন্ত্রাসের সরাসরি প্রমাণসমূহের বর্ণনা

শাতিমে রাসুল (অর্থাৎ "রাসূলের নিন্দা") ইসলামী আইন (শরিয়া) অনুসারে মুহাম্মদকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অপমান করা, উপহাস করা বা তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলাকে বোঝায়। এটি কুরআন বা হাদিসে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়, কিন্তু ইসলামী পণ্ডিতরা (যেমন ইবন তাইমিয়াহ তার গ্রন্থ "আস-সারিম আল-মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল"-এ) এটাকে কুফর (অবিশ্বাস) বা ধর্মত্যাগের সমতুল্য বলে ব্যাখ্যা করেন। উদাহরণস্বরূপ, কবিতা রচনা করে সমালোচনা করা বা মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি ইসলামের অসহিষ্ণুতার প্রতীক, যা মুহাম্মদের "সম্মান" রক্ষার নামে স্বাধীন মতপ্রকাশকে দমন করে।

শাতিমে রাসুলের শাস্তি

ইসলামী পণ্ডিতদের ঐকমত্য (ইজমা) অনুসারে, শাতিমে রাসুলের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড—যা হাদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) হিসেবে বিবেচিত। এটি মুসলিম বা অমুসলিম উভয়ের জন্য প্রযোজ্য, যদিও অমুসলিমদের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা আছে:

মুসলিমের জন্য: যে মুসলিম মুহাম্মদকে অপমান করে, সে ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) বলে বিবেচিত হয় এবং তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। পণ্ডিতরা বলেন, তওবা (অনুতাপ) করলেও এটি এড়ানো যায় না। উদাহরণস্বরূপ, হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী এবং হানবালী মাজহাবের পণ্ডিতরা এতে একমত। ইবন তাইমিয়াহ তার গ্রন্থে বলেন, এটি হাদ্দ অপরাধ এবং মৃত্যুদণ্ড অবশ্যম্ভাবী।

অমুসলিমের জন্য: দারুল ইসলামে (ইসলামী রাষ্ট্রে) বাসকারী অমুসলিম যদি মুহাম্মদকে অপমান করে, তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা অন্যান্য কঠোর শাস্তি (তাজির)। দারুল কুফরে (অমুসলিম দেশে) এটি প্রযোজ্য নয়, কিন্তু কিছু পণ্ডিত বলেন, মুসলিমরা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হত্যা করতে পারে।

মুহাম্মদের জীবদ্দশায় এমনি কিছু হত্যা কান্ড:

কা'ব ইবনু আশরাফের হত্যা

কা'ব ইবনু আশরাফ, বনী নাদিরের ইহুদি কবি, বদর যুদ্ধের পর মুহাম্মদের সমালোচনা করে কবিতা রচনা করেন। সহীহ বুখারী (হাদিস ৩০৩২, ৪০৩৭) অনুসারে, মুহাম্মদ জিজ্ঞাসা করেন, "কা'বকে হত্যা করবে কে?" কারণ সে "আল্লাহ ও রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে"। মুহাম্মদ ইবনু মাসলামাহ প্রতারণা করে রাতে তাকে হত্যা করেন এবং কাটা মাথা মুহাম্মদের সামনে ফেলে দেন; মুহাম্মদ তাকবির দিয়ে প্রশংসা করেন (ইবনে সাদ, ফাতহুল বারি ৭/৩৪০; সিরাহ ইবন ইশাক পৃ. ৩৬৪-৩৬৮; আল-তাবারি ভল. ৭, পৃ. ৯৪-৯৭)।

আসমা বিনতে মারওয়ানের হত্যা

আসমা বিনতে মারওয়ান, ইহুদি নারী কবি, বদর যুদ্ধ ও আবু আফাকের হত্যার সমালোচনা করে কবিতা রচনা করেন। সীরাতুল মুস্তফা, সিরাহ ইবন ইশাক (পৃ. ৬৭৫-৬৭৬), ওয়াকিদির মাগাজী, ইবনে সাদ (ভল. ২, পৃ. ৩০-৩১) অনুসারে, অন্ধ সাহাবী উমায়র ইবন আদী রাতে তার ঘরে প্রবেশ করে শিশুসন্তান সরিয়ে বুকে তরবারি ঢুকিয়ে হত্যা করেন। মুহাম্মদ বলেন, "এতে কোনো জরিমানা নেই" এবং প্রশংসা করেন।

গর্ভবতী দাসীকে হত্যা

সুনান আবু দাউদ (হাদিস ৪৩৬১) অনুসারে, এক অন্ধ লোকের গর্ভবতী দাসী (উম্মু ওয়ালাদ) মুহাম্মদকে গালি দিলে, সে ছুরি দিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে গর্ভস্থ শিশু সহ হত্যা করে। মুহাম্মদ বলেন, "তার রক্ত বৃথা গেলো"—কোনো শাস্তি নেই।

আবূ রাফির হত্যা

আবূ রাফি (সাল্লাম ইবনু আবূল হুকাইক), খাইবারের ইহুদি বণিক ও কবি, মুহাম্মদের বিরোধিতা করেন। সহীহ বুখারী (হাদিস ২৮১৩, ৪০৩৯, ৫:৫৯:৩৭০-৩৭২), সিরাহ ইবন ইশাক (পৃ. ৪৮২-৪৮৩), আল-তাবারি (ভল. ৮, পৃ. ১৭-১৮) অনুসারে, মুহাম্মদের নির্দেশে আবদুল্লাহ ইবনু আতিকের দল প্রতারণা করে দুর্গে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করেন।

আবু আফাকের হত্যা

আবু আফাক, ১২০ বছর বয়সী ইহুদি কবি, মুহাম্মদের যুদ্ধের সমালোচনা করে কবিতা রচনা করেন। সিরাহ ইবন ইশাক (পৃ. ৬৭৫), ইবনে সাদ (ভল. ২, পৃ. ৩০), ওয়াকিদির মাগাজী অনুসারে, মুহাম্মদের নির্দেশে সালিম ইবনু উমায়র ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করেন।

অন্ধ রাখালের হত্যা

বনু আল-দিল গোত্রের একজন বেদুইন, ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ কবিতা রচনা করেছিলেন, যা মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করত। সিরাত রাসুল আল্লাহ (ইবন ইশাক, পৃ. ৬৭৩-৬৭৫)-এ বর্ণিত যে মুহাম্মদের একজন সাহাবী, আল-দামরী (বা আমর ইবনু জিহাশ), রাতে তার গুহায় প্রবেশ করে। রাখাল ঘুমিয়ে থাকলে, তিনি তার ধনুকের শেষ অংশ তার সুস্থ চোখে ঢুকিয়ে দেন এবং চাপ দিয়ে তার ঘাড়ের পিছন দিয়ে বের করে দেন। পরে, আল-দামরী মুহাম্মদের কাছে ফিরে এলে, মুহাম্মদ তাকে আশীর্বাদ করেন এবং প্রশংসা করেন, কারণ রাখাল "ইসলামকে অপমান করেছে"।

উম্ম কিরফার হত্যা

উম্ম কিরফা (ফাতিমা বিনতে রাবিয়া বিন বদর), ফাজারা গোত্রের একজন বৃদ্ধা নারী নেত্রী এবং কবি, মুহাম্মদের বিরোধিতা করেছিলেন এবং তার গোত্র মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সিরাত রাসুল আল্লাহ (ইবন ইশাক, পৃ. ৯৮০)-এ বর্ণিত যে মুহাম্মদের দত্তকপুত্র জায়দ ইবনু হারিথাহ তার গোত্রে অভিযান চালান এবং তাকে বন্দী করেন। পরে, জায়দের নির্দেশে কায়স ইবনু আল-মুসাহহার তার দুটি পা দুটি উটের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেন এবং উটগুলোকে বিপরীত দিকে চালিয়ে তার দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। এই ঘটনা আল-তাবারির তারিখ (ভল. ৮, পৃ. ৯৫-৯৭) এবং অন্যান্য ইসলামী সূত্রেও নথিভুক্ত।

মুহাম্মদের সামরিক অভিযান: লুটতরাজ এবং আক্রমণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মুহাম্মদের জীবদ্দশায় তিনি অন্তত ৮৬টি সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেন বা নির্দেশ দেন, যার মধ্যে ২৭টিতে তিনি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। এগুলোর অধিকাংশই আক্রমণাত্মক, যেমন কাফেলা লুট করা, গোত্র আক্রমণ করা এবং প্রতিপক্ষকে নির্মূল করা। এই অভিযানগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক লাভের জন্যও চালানো হয়, যা সন্ত্রাসের একটি ক্লাসিক উদাহরণ।  

প্রথম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো নাখলা রেইড (৬২৪ খ্রি.): মুহাম্মদের নির্দেশে মুসলিমরা কুরাইশ কাফেলা আক্রমণ করে একজনকে হত্যা করে এবং দু'জনকে বন্দী করে। এটি পবিত্র মাসে ঘটে, যা ঐতিহ্যগতভাবে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল, এবং এতে লুটতরাজের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এই ঘটনা দেখায় যে মুহাম্মদের অভিযানগুলো নিয়ম ভঙ্গ করে চালানো হয়, যা ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। 

বদরের যুদ্ধ (৬২৪ খ্রি.): মুহাম্মদ ৩১৪ জন যোদ্ধা নিয়ে কুরাইশ কাফেলা লুট করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন, যাতে ৭০ জন কুরাইশ নিহত হয় এবং ৩০-৪৭ জন বন্দী হয়। এটি অর্থনৈতিক লাভের জন্য সন্ত্রাসমূলক আক্রমণ, যেখানে বন্দীদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ আদায় করা হয়। মুসলিম পণ্ডিতরা এটিকে রক্ষণাত্মক বলে দাবি করেন, কিন্তু ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখায় যে এটি আগাম আক্রমণ ছিল।  

উহুদের যুদ্ধ (৬২৫ খ্রি.)-এ মুহাম্মদের নেতৃত্বে মুসলিমরা কুরাইশের সাথে যুদ্ধ করে, যেখানে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হয়, কিন্তু এটি পূর্ববর্তী আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হলেও মুহাম্মদের সামরিক সম্প্রসারণের অংশ। খন্দকের যুদ্ধ (৬২৭ খ্রি.)-এ মদীনাকে রক্ষা করা হয়, কিন্তু এর পরেই আরও নির্মম কর্মকাণ্ড ঘটে। 

বানু কুরাইজা গোত্রের উপর আক্রমণ (৬২৭ খ্রি.): খন্দকের যুদ্ধে এই ইহুদি গোত্র কথিত বিশ্বাসঘাতকতা করে, যার জন্য মুহাম্মদের নির্দেশে ৬০০-৯০০ জন পুরুষকে শিরশ্ছেদ করা হয়, নারী ও শিশুদের দাস বানানো হয় এবং তাদের সম্পত্তি লুট করা হয়। এটি গণহত্যার একটি উদাহরণ, যা আধুনিক মানদণ্ডে যুদ্ধাপরাধ। মুসলিম পণ্ডিতরা দাবি করেন যে এটি ইহুদি আইন অনুসারে সাজা ছিল, কিন্তু ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখায় যে সংখ্যা এবং নির্মমতা অতিরঞ্জিত হলেও ঘটনাটি সত্য, এবং এটি সন্ত্রাসের সাথে মিলে যায়।  

খাইবারের অভিযান (৬২৮ খ্রি.): মুহাম্মদ ১৫০০ যোদ্ধা নিয়ে ইহুদিদের আক্রমণ করেন, দুর্গ জয় করেন, দু'জন নেতাকে হত্যা করেন এবং জিজিয়া আদায় করেন। এখানে ইহুদি নেতা কিনানাহকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘু দমনের প্রমাণ। 

এই অভিযানগুলো দেখায় যে মুহাম্মদের সামরিক কৌশল ছিল আক্রমণাত্মক, যা ইসলামের প্রসারের জন্য সন্ত্রাস ব্যবহার করেছে।

মুহাম্মদের কর্মকাণ্ড, হত্যা, লুটতরাজ, গণহত্যা প্রমাণ করে যে তিনি একজন সন্ত্রাসবাদী ছিলেন। তার নির্দেশাবলী আধুনিক ইসলামী সন্ত্রাসীদের অনুপ্রেরণা দেয়, যেমন আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস। ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করা একটি মিথ্যা; এটি সহিংসতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে, মুহাম্মদকে বিরোধিতা করা মানবতার জন্য অপরিহার্য। মুসলিম প্রতিরক্ষা যুক্তিগুলো প্রসঙ্গের অজুহাত দেয়, কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্য দেখায় যে এগুলো আক্রমণাত্মক ছিল।

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন