ইসলাম ও মুহাম্মদ যেভাবে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছে
ইসলাম, শান্তি বা ন্যায়ের ধর্ম হিসেবে দাবি করা সত্ত্বেও, এখানে এমন সব কর্মকান্ডের অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা যে কোনো যুক্তিসম্মত মানুষ বর্বরতা হিসেবে বিবেচনা করবে, যার মধ্যে যুদ্ধে বন্দী নারীদের ধর্ষণের অনুমোদন অন্তর্ভুক্ত। এই রিপোর্টটি কুরআনের আয়াত, হাদিস এবং মুহাম্মদের নিজস্ব ঐতিহাসিক নজিরের মাধ্যমে প্রমাণ করবে যে তিনি শুধু অনুমোদন করেননি বরং সক্রিয়ভাবে ধর্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অ-মুসলিম নারীদের যৌন শোষণকে "ডান হাতের সম্পত্তি" হিসেবে কোডিফাই করেছেন।
ইসলামী চিন্তাবিদরা এই অত্যাচারগুলোকে প্রসঙ্গগত অজুহাত বা অস্বীকার করার মাধ্যমে বৈধতা প্রদান করার চেষ্টা করে, কিন্তু প্রমাণ অখণ্ডনীয়: মুহাম্মদের কর্ম এবং শিক্ষা ধর্ষণকে বিজয় এবং দমনের হাতিয়ার হিসেবে প্রমান করেছে।
কুরআনী ভিত্তি: বন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্কের স্পষ্ট অনুমতি
কুরআন, যা মুসলিমরা মুহাম্মদের কাছে প্রকাশিত আল্লাহর চিরন্তন বাণী হিসেবে দাবি করে, সেই কুরআন ধর্ষণের অনুমোদনের জন্য ধর্মীয় ভিত্তি প্রদান করে। বেশ কয়েকটি আয়াত স্পষ্টভাবে মুসলিম পুরুষদের যুদ্ধে বন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়, যাদেরকে "যাদের তোমার ডান হাত মালিক" (মা মালাকাত আয়মানুকুম) বলে ইঙ্গিত করা হয়। এই বাক্যাংশ দাসী বা বন্দীদের নির্দেশ করে, এবং প্রসঙ্গ স্পষ্ট করে যে সম্মতি অপ্রাসঙ্গিক, যার মানে এই নারীরা সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায়।
সূরা নিসা আয়াত ২৪: নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, আল্লাহ এসব ব্যবস্থা তোমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। এই সূরার তাফসিরে বলা হয়েছে, "তেমনিভাবে তিনি (আল্লাহ) তোমাদের উপর বিবাহিতা মহিলাদেরকে হারাম করে দিয়েছেন। তবে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে বন্দী করার মাধ্যমে তোমরা যাদের মালিক হয়েছো তাদের কথা অবশ্যই ভিন্ন। একটি ঋতু স্রাবের মাধ্যমে তাদের জরায়ুগুলো খালি প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল। উক্ত বিধানটি পালন করা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর একেবারেই ফরয করে দিয়েছেন।"
যুক্তিযুক্তভাবে, যদি একজন নারীকে বন্দী করা হয়, তার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তারপর তার বন্দীকারকের যৌন দাবির অধীনে রাখা হয়, তাহলে এটি যেকোনো নৈতিক মানদণ্ডে ধর্ষণ গণ্য হয়। এই আয়াত সরাসরি বিবাহিত বন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়, সেই বন্দি নারীদের বৈবাহিক অবস্থাকে উপেক্ষা করে এবং জোরপূর্বক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় কারণ বন্দীরা যারা সবেমাত্র ইসলামী জঙ্গিদের হাতে তাদের স্বামীকে হারিয়েছে তারা স্বাধীনভাবে যৌনসম্পর্কের সম্মতি দিতে পারে না।
এই কুরআনে বন্দি নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার কথা আরো বিভিন্ন আয়াতে করা হয়েছে, যেমন সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৬ এবং সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত ৩০।
হাদিসের প্রমাণ: মুহাম্মদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং অনুমোদন
হাদিসগুলো মুহাম্মদের কথা এবং কর্মের সংগ্রহ যা ইসলামে কর্তৃত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত যা ধর্ষণের অনুমোদনের কংক্রিট উদাহরণ প্রদান করে। এই গ্রন্থগুলো, বুখারী এবং মুসলিমের মতো পণ্ডিতদের দ্বারা সংকলিত, সুন্নাহ (অনুকরণীয় আচরণ) হিসেবে সম্মানিত যা মুসলিমদের অনুসরণ করতে হবে।
মুহাম্মদ সরাসরি যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণে অনুমতি প্রদান করেছে (সহিহ মুসলিম ৩৪১৩)। ..."হ্যাঁ, আমরা মুহাম্মদের সাথে বনূ মুস্তালিকের যুদ্ধ করছি। সে যুদ্ধে আমরা অনেক ভাল ভাল আর সুন্দরী বাঁদী হিসেবে লাভ করি। এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সংস্পর্শ বর্জিত ছিলাম। অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী। এমতাবস্থায় আমরা বাদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং আযল করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ মুহাম্মদ আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁর নিকট আমরা এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করব না? তাই আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই।"
বনু আল-মুসতালিকের যুদ্ধে মুহাম্মদ নিজেও জুয়াইরিয়া বিনত আল-হারিস নামক এক নারীকে (যার স্বামী এই যুদ্ধে নিহত হয়েছিল) তার নিজ গোত্রের ১০০ পরিবারকে মুক্তি দেবার বিনিময়ে মুহাম্মদকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় (সুনান আবূ দাউদ ৩৯৩১)।
হাদিসগুলোতে মুহাম্মদের ব্যক্তিগত উদাহরণ পাওয়া যায়, যা ধর্ষণকে স্পষ্ট করে। সুনান আবূ দাউদ ২৯৯৫ আনাস ইবনু মালিক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমরা খায়বারে আক্রমণ করি। আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করালেন তখন হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাহর সৌন্দর্যের কথা মুহাম্মদের কাছে বর্ণনা করা হয়। তিনি সদ্য বিবাহিতা ছিলেন এবং তার স্বামী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। মুহাম্মদ তাকে নিজের জন্য পছন্দ করলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ’আমরা সাদ্দুস-সাহবা নামক জায়গাতে পৌঁছলে তিনি মাসিক ঋতু থেকে পবিত্র হন। মুহাম্মদ তার সাথে নির্জনবাস করেন।"
সাফিয়া যার স্বামী ও পিতাকে মুহাম্মদ হত্যা করেছে, সে কোনো স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়নি; তিনি ছিলেন একজন বন্দী, যার পরিবার ধ্বংস করা হয়েছে। মুহাম্মদ সাফিয়াকে ভয় দেখিয়ে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষণ করেছে। কথা পরিষ্কার?
এছাড়া, আয়েশার ঘটনা ইসলামের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং অমানবিক দিক। সহিহ মুসলিম (হাদিস ৩৩১১): আয়েশা বলেন, “নবী আমাকে বিয়ে করেন যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর; এবং যখন আমি তাঁর ঘরে যাই, তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। তখনো আমার পুতুল আমার সঙ্গে ছিল।” এটি আধুনিক আইনে শিশু ধর্ষণ, কারণ ৯ বছরের শিশু সম্মতি দিতে অক্ষম। ইসলামী উৎসে এটিকে স্বাভাবিক বলে বর্ণিত, কিন্তু এটি মুহাম্মদের নৈতিকতার উপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনা দেখায় যে, ইসলাম শিশু বিবাহকে অনুমোদন করে, যা আধুনিক বিশ্বে অপরাধ।
সহিহ বুখারী (হাদিস ৬১৩০): আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম।”
আপনারা অনুমান করে দেখুন, একটি পুতুল খেলা মেয়ে কিভাবে মুহাম্মদের সাথে যৌন সম্পর্কের অনুমুতি দিতে পারে?
শরিয়া আইনে, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কে সম্মতির কোনো প্রয়োজন নেই। শরিয়া অনুসারে, দাসীরা মালিকের সম্পত্তি, এবং তাদের সাথে সম্পর্ক "আইনসম্মত"। ক্লাসিকাল ইসলামী আইনবিদরা বলেন যে, দাসীর সম্মতি "ঐচ্ছিক" কিন্তু আইনগতভাবে দরকারী নয়।
কুরআন, হাদিস এবং ইতিহাসের মাধ্যমে, মুহাম্মদ শুধু ধর্ষণ অনুমোদন করেননি বরং এটিকে মুসলিমদের জন্য হালাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটি অত্যুক্তি নয়, এটি ইসলামের নিজস্ব গ্রন্থ থেকে প্রমাণিত সত্য। একজন অনুমিত নবী হিসেবে, তিনি মানবতার মৌলিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং কলুষিত ইসলামের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে।
Comments
Post a Comment