ইসলামের নবী মুহাম্মদ একজন ধর্ষক ছিলেন

ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদকে মুসলিমরা একজন নৈতিক, আদর্শবাদী এবং আল্লাহ প্রেরিত নবী হিসেবে দাবি করে, কিন্তু ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে একটি অন্ধকার, অমানবিক এবং নারীবিরোধী চিত্র উঠে আসে।

এই প্রতিবেদনে আমি যুক্তিসঙ্গত এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণ করব যে, মুহাম্মদের কিছু কর্মকাণ্ড আধুনিক নৈতিকতা, আইন এবং মানবাধিকারের দৃষ্টিতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় পড়ে। আমরা ধর্ষণের সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করব, যা আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন থেকে নেয়া, তারপর ইসলামী উৎস যেমন কুরআন, হাদিস এবং শরিয়া আইন থেকে বিস্তারিত উদাহরণ তুলে ধরব, যেখানে হাদিস নম্বরসহ স্পষ্ট প্রমাণ দেয়া হবে।

যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক, দাসীদের প্রতি আচরণ এবং শিশু আয়েশার ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমরা দেখব যে, ইসলামের এই দিকগুলো নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, অমানবিক এবং ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেয়। এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো ইসলামের অন্ধকার দিকগুলোকে আলোকিত করা এবং মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করা, কারণ এটি মানবতার সাথে সাংঘর্ষিক।

ইসলামকে একটি শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করা হয়, কিন্তু তার ভিত্তিতে এমন অমানবিকতা লুকিয়ে আছে যা আধুনিক বিশ্বে অগ্রহণযোগ্য। এই প্রতিবেদনটি সরাসরি ইসলামী উৎস এবং আধুনিক গবেষণা থেকে উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কোনো অজুহাত ছাড়াই সত্য প্রকাশ পায়।

ধর্ষণের সংজ্ঞা কি?

আধুনিক আইনে ধর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, সম্মতি ছাড়া যে কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ হিসেবে।ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে, ধর্ষণ হলো "অনুমতি ছাড়া যৌন কার্যকলাপ, সাধারণত যৌন মিলন, যা বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে করা হয়"। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এর সংজ্ঞায় ধর্ষণ হলো "যেকোনো ব্যক্তির শরীরে অনুপ্রবেশ, যত সামান্যই হোক, শরীরের অংশ বা বস্তু দিয়ে, অথবা মুখে যৌনাঙ্গ দিয়ে অনুপ্রবেশ, সম্মতি ছাড়া"। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (UN Human Rights Council) অনুসারে, ধর্ষণ হলো "যৌন প্রকৃতির শারীরিক অনুপ্রবেশ, যা একজন ব্যক্তির উপর সংঘটিত হয় যখন তার সম্মতি নেই"।

এটি শারীরিক বলপ্রয়োগ, ভয় দেখানো, জোর করে বা অসম্মতিতে যৌন কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করে। আধুনিক আইনে সম্মতির উপর জোর দেয়া হয়, যেখানে সম্মতি অবশ্যই স্বেচ্ছায়, সচেতন এবং প্রত্যাহারযোগ্য হতে হবে। পুরনো সংজ্ঞায় ধর্ষণকে শুধুমাত্র বলপ্রয়োগের সাথে যুক্ত করা হতো, কিন্তু আধুনিক সংজ্ঞায় সম্মতির অভাবই মূল, যা শক্তির অসমতুল্যতা, দাসত্ব বা শিশুত্বের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কের সাথে যৌন সম্পর্ক সর্বদা ধর্ষণ বলে গণ্য হয়, কারণ তারা সম্মতি দিতে অক্ষম। এই সংজ্ঞা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যাই হোক না কেন, সম্মতির অভাব যে কোনো যুগে মানবাধিকার লঙ্ঘন। ইসলামী প্রেক্ষাপটে, যেখানে দাসত্ব এবং যুদ্ধবন্দীদের সাথে যৌন সম্পর্ক অনুমোদিত, এই সংজ্ঞা প্রয়োগ করে আমরা দেখব যে মুহাম্মদের কর্মকাণ্ড ধর্ষণের শ্রেণীতে পড়ে। আধুনিক নৈতিকতায় যুগের নিয়ম কোনো অজুহাত নয়; নারীর অধিকার সর্বদা অলঙ্ঘনীয়।


মুহাম্মদের ধর্ষণ এবং ইসলামী উৎস থেকে প্রমাণ

ইসলামী ধর্মগ্রন্থগুলো স্পষ্টভাবে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ককে অনুমোদন করে, যা সম্মতির প্রশ্নকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেয়। কুরআনের সূরা আন-নিসা (৪:২৪) বলে: "বিবাহিত নারীদের নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক (অর্থাৎ দাসী বা যুদ্ধবন্দী নারী) তাদের সাথে সম্পর্ক অনুমোদিত।"

এটি যুদ্ধে বন্দি নারীদেরকে পুরুষদের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করে, যাদের সম্মতি ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যায়, এমনকি তারা বিবাহিত হলেও। কুরআনের তাফসিরে বলা হয়েছে যে, এই "ডান হাতের মালিকানা" যুদ্ধবন্দীদেরকে যৌন দাসীতে পরিণত করে, যা আধুনিক দৃষ্টিতে ধর্ষণ। এই আয়াত ইসলামী আইনের ভিত্তি, যা দাসত্বকে সমর্থন করে এবং নারীদেরকে বস্তু হিসেবে দেখে।

হাদিসগুলোতে মুহাম্মদের ব্যক্তিগত উদাহরণ পাওয়া যায়, যা ধর্ষণের মতো কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট করে। সুনান আবূ দাউদ ২৯৯৫ আনাস ইবনু মালিক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আমরা খায়বারে আক্রমণ করি।  আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করালেন তখন হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাহর সৌন্দর্যের কথা মুহাম্মদের কাছে বর্ণনা করা হয়। তিনি সদ্য বিবাহিতা ছিলেন এবং তার স্বামী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। মুহাম্মদ তাকে নিজের জন্য পছন্দ করলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ’আমরা সাদ্দুস-সাহবা নামক জায়গাতে পৌঁছলে তিনি মাসিক ঋতু থেকে পবিত্র হন। মুহাম্মদ তার সাথে নির্জনবাস করেন।

সাফিয়া যার স্বামী ও পিতাকে মুহাম্মদ হত্যা করেছে, সে কোনো স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়নি; তিনি ছিলেন একজন বন্দী, যার পরিবার ধ্বংস করা হয়েছে। মুহাম্মদ সাফিয়াকে ভয় দেখিয়ে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষণ করেছে। কথা পরিষ্কার?

এছাড়া, আয়েশার ঘটনা ইসলামের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং অমানবিক দিক। সহিহ মুসলিম (হাদিস ৩৩১১): আয়েশা বলেন, “নবী আমাকে বিয়ে করেন যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর; এবং যখন আমি তাঁর ঘরে যাই, তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। তখনো আমার পুতুল আমার সঙ্গে ছিল।”  এটি আধুনিক আইনে শিশু ধর্ষণ, কারণ ৯ বছরের শিশু সম্মতি দিতে অক্ষম। ইসলামী উৎসে এটিকে স্বাভাবিক বলে বর্ণিত, কিন্তু এটি মুহাম্মদের নৈতিকতার উপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনা দেখায় যে, ইসলাম শিশু বিবাহকে অনুমোদন করে, যা আধুনিক বিশ্বে অপরাধ।

সহিহ বুখারী (হাদিস ৬১৩০): আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম।”

আপনারা অনুমান করে দেখুন, একটি পুতুল খেলা মেয়ে কিভাবে মুহাম্মদের সাথে যৌন সম্পর্কের অনুমুতি দিতে পারে?

অনুরূপভাবে, মারিয়া আল-কিবতিয়া, একজন দাসী, যাকে মুহাম্মদের কাছে উপহার দেয়া হয়, তার সাথেও মুহাম্মদ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। শুধু তাই নয়, মারিয়ার সাথে যৌনাচার ধামাচাপা দিতে মুহাম্মদ বরাবরের মতই কিছু কোরানের আয়াত নাজিল করে নেয় এবং আল্লাহর নাম চালিয়ে দেয়। 

সূরা আত-তাহরীম (৬৬:১): হে নবী, আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনায় তুমি কেন তা হারাম করছ? আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

"(হে নবী!) অর্থাৎ মুহাম্মদ " (আপনি কেন আল্লাহ যা আপনার জন্য বৈধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করছেন) অর্থাৎ মারিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা; কারণ তিনি আপনার স্ত্রীকে (মুহাম্মদের স্ত্রী হাফসা) সন্তুষ্ট করার জন্য তাকে বিয়ে করতে নিজেকে নিষেধ করেছিলেন (এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল) তিনি আপনাকে ক্ষমা করেন, (দয়াময়)।"

এই প্রেক্ষিতে, আধুনিক অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদ দ্বিধায় পড়েন এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে, এই বর্ণনাগুলিকে উপেক্ষা করার কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু এসব কৌশল যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার বিকল্প হতে পারে না।

শরিয়া আইনে, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কে সম্মতির কোনো প্রয়োজন নেই। শরিয়া অনুসারে, দাসীরা মালিকের সম্পত্তি, এবং তাদের সাথে সম্পর্ক "আইনসম্মত"। ক্লাসিকাল ইসলামী আইনবিদরা বলেন যে, দাসীর সম্মতি "ঐচ্ছিক" কিন্তু আইনগতভাবে দরকারী নয়। এটি মুহাম্মদের অনুসরণ করে, যিনি যুদ্ধবন্দীদেরকে বিতরণ করতেন এবং তাদের সাথে যৌনতা অনুমোদন করতেন। শরিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি শুধুমাত্র স্বাধীন নারীদের জন্য, দাসীদের জন্য নয়। এই ব্যবস্থা ইসলামকে একটি নারীবিরোধী ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে, যা দাসত্বকে চিরস্থায়ী করে এবং ধর্ষণকে আইনসম্মত করে।

আধুনিক আইনে সমালোচনা

আধুনিক সমালোচকরা, মুহাম্মদের এই কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে ধর্ষণ বলে অভিহিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, উইকিইসলাম এবং অন্যান্য উৎসে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে সম্পর্ক "জোরপূর্বক যৌনতা" এবং ধর্ষণ। একাডেমিক গবেষণায়, যেমন "A Perversion of Islamic Ethics" বলা হয়েছে যে, ইসলামী আইনে দাসীদের ধর্ষণ এবং নির্যাতন অনুমোদিত, যা অমানবিক। অন্যান্য পণ্ডিতরা, যেমন "Rape in Islamic Law" নামক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, যে ইসলামী ঐতিহ্য নারীদেরকে দোষী করে, যা মুহাম্মদের যুগ থেকে চলে আসছে। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই কর্মকাণ্ডগুলো কোনো সাংস্কৃতিক নিয়ম দিয়ে ছাড় পায় না; শক্তির অসমতুল্যতা এবং সম্মতির অভাব এটাকে ধর্ষণ করে।

এমনকি কিছু মুসলিম পণ্ডিতরা স্বীকার করেন যে এটি "প্রাক-আধুনিক" কিন্তু ক্ষতিকর, কিন্তু তারা এটিকে প্রত্যাখ্যান করতে অক্ষম। আয়েশার ঘটনায়, আধুনিক সমালোচকরা এটিকে শিশু নির্যাতন বলে অভিহিত করেন, যা ইসলামের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। এই সমালোচনাগুলো দেখায় যে, ইসলামের দাসত্ব এবং যৌনতার নিয়মগুলো আধুনিক মানবতাবাদের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। পণ্ডিতরা যুক্তি দেন যে, সম্মতির অভাবে যৌনতা সর্বদা ধর্ষণ, এবং ইসলাম এটিকে অনুমোদন করে নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করে। এইসব গবেষণা প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদের কর্মকাণ্ড ধর্ষণের সংজ্ঞায় পড়ে এবং ইসলামকে একটি অমানবিক এবং নিন্ম শ্রেণীর ধর্মে স্থান দেয়, যা ত্যাগ করা উচিত। 

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন