নবী মুহাম্মদের যুদ্ধের নামে ডাকাতি, গনিমতের মাল লুটপাট ও সহিংসতা
আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য শান্তি বা আধ্যাত্মিকতা ছিল না, বরং ছিল লুটতরাজ, যৌনতা এবং ক্ষমতার লোভ। এই নিবন্ধে, আমি মুসলিমদের ইতিহাস, কোরান এবং হাদিসের আলোকে দেখাব যে, মুহাম্মদ ছিলেন একজন যুদ্ধপ্রিয়, যে তার অনুসারীদেরকে ধন-সম্পদ এবং নারীদের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে উত্তেজিত করতেন।
মুহাম্মদ, যাকে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা বলে দাবি করা হয়, তিনি আসলে একজন রক্তপিপাসু যুদ্ধপতি ছিলেন যিনি ধর্মের নামে অসংখ্য যুদ্ধ, লুটপাট এবং হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন। ইসলামের মূল গ্রন্থ কুরআন এবং হাদিসে তার এই যুদ্ধপ্রিয় চরিত্রের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যেখানে অন্যান্য ধর্মের প্রতিষ্ঠাতারা শান্তি এবং অহিংসার প্রচার করেছেন, সেখানে মুহাম্মদ তার অনুসারীদেরকে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে উত্তেজিত করেছেন।
আমি কুরআন এবং হাদিসের সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করব যে মুহাম্মদের নেতৃত্বে ইসলাম একটি হিংসাত্মক ধর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যা মানবতার জন্য একটি অভিশাপ। তার যুদ্ধগুলো ছিল শুধু আক্রমণাত্মক এবং লুটের লোভে চালিত। প্রিয় পাঠক, যদি আপনি আপনার বুদ্ধি এবং যুক্তিকে ত্যাগ করে ইসলামকে গ্রহণ করেন, তাহলে এই কথাগুলো গ্রহণ করা কঠিন হবে। কিন্তু যদি আপনার বিবেক থাকে, তাহলে আপনি প্রশ্ন করতে বাধ্য যে, আল্লাহ কি তার নবীকে যুদ্ধের নির্দেশ দিত?
গনিমতের মাল ভাগাভাগি
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, মুহাম্মদের যুদ্ধপ্রিয়তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হলো গনিমতের মাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা লুটের মাল) ভাগাভাগির নিয়ম, যা কুরআন এবং হাদিসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত। এই নিয়মগুলো দেখে বোঝা যায় যে, মুহাম্মদ ধর্মের নামে লুটপাটকে বৈধ করে নিজের এবং তার অনুসারীদের লোভ মেটাতেন। তিনি যুদ্ধকে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছিলেন, যেখানে অবিশ্বাসীদের সম্পদ লুট করে ভাগাভাগি করা হতো। এটি একজন সত্যিকারের নবীর চরিত্র নয়, বরং একজন লুটেরা যুদ্ধপতির আচরণ।
কুরআন এবং হাদিসে এই লুটের নিয়মগুলোকে 'আল্লাহর নির্দেশ' বলে দাবি করা হয়েছে, যা আসলে মুহাম্মদের নিজস্ব লোভ এবং ক্ষমতালিপ্সার ফল। এই নিয়মগুলোতে মুহাম্মদ নিজেকে ১/৫ (পাঁচ ভাগের এক ) ভাগের মালিক বানিয়েছেন, যা তাকে যুদ্ধের মাধ্যমে ধনী করে তুলেছে এবং অনুসারীদেরকে লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে উত্তেজিত করেছে। এটি ইসলামকে একটি হিংসাত্মক এবং লুটেরাভিত্তিক মতাদর্শ করে তুলেছে, যা মানবতার জন্য অভিশাপ। নিম্নে কুরআনের আয়াত এবং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এই নির্মম সত্য উন্মোচন করা হলো।
কুরআনের আয়াত: লুটের মাল ভাগাভাগির নিয়ম
কুরআনে গনিমতের মালকে বৈধ করে ভাগাভাগির নিয়ম দেওয়া হয়েছে, যা মুহাম্মদের লোভকে স্পষ্ট করে। এই আয়াতগুলো দেখে বোঝা যায় যে, ইসলাম যুদ্ধকে লুটের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে।
সুরা আল-আনফাল, আয়াত ১: "তারা তোমাকে গনিমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, গনিমতের মাল আল্লাহ এবং রাসূলের। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করো।"
এই আয়াতে মুহাম্মদ গনিমতের মালকে নিজের এবং 'আল্লাহর' বলে দাবি করেছেন, যা আসলে তার একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যুদ্ধের লুটকে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর টুল হিসেবে ব্যবহার করতেন, যা একজন লুটেরার মতো আচরণ।
সুরা আল-আনফাল, আয়াত ৪১: "জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু গনিমতের মাল লাভ করো, তার পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, আত্মীয়-স্বজনের জন্য, ইয়াতীমদের জন্য, মিসকীনদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য।"
এখানে মুহাম্মদ নিজেকে ১/৫ ভাগের মালিক বানিয়েছেন, যা তাকে যুদ্ধের লুট থেকে ধনী করে তুলেছে। এটি তার লোভের চরম উদাহরণ, কারণ তিনি 'আল্লাহর' নামে নিজের ভাগ নিশ্চিত করেছেন, যখন যোদ্ধারা ঝুঁকি নেয়। এমন নিয়ম কোনো নৈতিক নেতা দিতেন না; এটি একজন যুদ্ধপতির কৌশল, যিনি লুট ভাগ করে অনুসারীদের কিনে নেন।
সুরা আল-হাশর, আয়াত ৬-৭: "আল্লাহ যা তার রাসূলকে বনু নাদীরের লোকদের থেকে দিয়েছেন, তোমরা তার জন্য ঘোড়ায় চড়োনি এবং উটে চড়োনি। কিন্তু আল্লাহ তার রাসূলদেরকে যাদের উপর ইচ্ছা করে ক্ষমতা দেন। ... যা আল্লাহ তার রাসূলকে শহরবাসীদের থেকে দিয়েছেন, তা আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, আত্মীয়-স্বজনের জন্য, ইয়াতীমদের জন্য, মিসকীনদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। যাতে তা তোমাদের মধ্যে ধনীদের মধ্যে ঘুরে না বেড়ায়।"
এই আয়াতে ফাই (যুদ্ধ ছাড়া লব্ধ সম্পদ) এর ভাগাভাগি বর্ণিত, যা মুহাম্মদকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। এটি তার সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার প্রমাণ, যেখানে তিনি লুটকে 'ধনীদের মধ্যে ঘুরে না বেড়ানোর' অজুহাতে নিজের হাতে রাখেন, কিন্তু বাস্তবে নিজের লাভের জন্য ব্যবহার করেন। এমন নিয়ম ইসলামকে একটি লুটেরাভিত্তিক সিস্টেম করে তুলেছে।
এই আয়াতগুলো লজিক্যালভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মুহাম্মদ যুদ্ধকে লুটের ব্যবসায় পরিণত করেছেন, যা তার নৈতিক পতনের স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি নিজেকে ১/৫ ভাগ দিয়ে যুদ্ধকে লাভজনক করে তুলেছেন, যা অনুসারীদেরকে হত্যা এবং লুটে উত্তেজিত করে।
হাদিসের সাক্ষ্য: লুটের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধের উস্কানি
হাদিসে গনিমতের ভাগাভাগি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত, যা মুহাম্মদের লুটপ্রিয় চরিত্র উন্মোচিত করে। তিনি লুটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুসারীদেরকে যুদ্ধে ঠেলে দিতেন, যা একজন ম্যানিপুলেটর যুদ্ধপতির কাজ।
সহীহ বুখারী, হাদিস ৩১২৪ (কিতাবুল খুমুস): মুহাম্মদ বলেছেন, "আমাকে পৃথিবীর ধনভান্ডারের চাবি দেওয়া হয়েছে।" এটি তার লুটের লোভ দেখায়, যেখানে তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে নিজের বলে দাবি করেন।
সহীহ বুখারী, হাদিস ৪৩৩০: "হুনাইনের যুদ্ধের দিন আল্লাহ তার রাসূলকে গনিমতের মাল দিলেন, তিনি তা সদ্য ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে বিতরণ করলেন।"
এখানে মুহাম্মদ লুটের মাল দিয়ে লোকদের কিনে নিয়েছেন, যা তার ক্ষমতালোভের প্রমাণ। তিনি কিছু লোককে বিশেষভাবে ১০০ উট দিয়েছেন, যা লুটকে লোভের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার। এটি দেখায় যে, তিনি যুদ্ধের লুট দিয়ে অনুগত্য কিনতেন, যা একজন লুটেরা নেতার চরিত্র।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৭৩৮: "বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ বললেন, যে কাউকে হত্যা করবে তাকে এত এত দেওয়া হবে, এবং যে কাউকে বন্দী করবে তাকে এত এত দেওয়া হবে।"
এখানে মুহাম্মদ যুদ্ধের আগে লুটের লোভ দেখিয়ে অনুসারীদেরকে উত্তেজিত করেছেন, যা হত্যাকাণ্ডকে প্রণোদিত করে। এটি তার নির্মমতার প্রমাণ, যেখানে তিনি মানুষকে লুটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুদ্ধে ঠেলে দেন।
সহীহ বুখারী, হাদিস ৩০৭৩: "আলী বলেন, আমি গনিমত থেকে একটি পুরনো উটী পেয়েছি, এবং নবী আমাকে খুমুস থেকে আরেকটি দিলেন।" এটি দেখায় যে, মুহাম্মদ খুমুস (১/৫) নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং নিজের ইচ্ছামতো বিতরণ করতেন, যা তার একক ক্ষমতার অপব্যবহার।
এই হাদিসগুলো যুক্তিসম্মতভাবে দেখলে বোঝা যায় যে, মুহাম্মদ গনিমতের মালকে যুদ্ধের প্রধান অনুপ্রেরণা বানিয়েছেন, যা ইসলামকে একটি লুটেরাভিত্তিক ধর্ম করে তুলেছে। তিনি নিজেকে ১/৫ ভাগ দিয়ে ধনী হয়েছেন এবং লুট দিয়ে অনুসারীদের কিনেছেন, যা তার যুদ্ধপতি চরিত্রের নির্মম প্রমাণ। এমন নিয়মগুলো ইসলামকে শান্তির পরিবর্তে হিংসা এবং লোভের ধর্ম করে তুলেছে, যা আমি দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি।
হাদিস, যা মুহাম্মদের কথা এবং কাজের সংকলন, তাতেও তার যুদ্ধপ্রিয়তার প্রমাণ মেলে। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিসে জিহাদকে সর্বোচ্চ আমল বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যা অনুসারীদেরকে যুদ্ধে উত্তেজিত করে। এই হাদিসগুলো যুক্তিসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মুহাম্মদ ধর্মের নামে হিংসা এবং লুটপাটকে উত্তেজিত করেছেন, যা একজন সত্যিকারের নৈতিক নেতার চরিত্রের সাথে মেলে না। নিম্নে কয়েকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তার যুদ্ধপ্রিয় মানসিকতার প্রমাণ দেওয়া হলো:
সহীহ বুখারী, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৪৬ (সহীহ বুখারী ২৭৯৭): "আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন এর বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহে, অতঃপর মারে ও মরে।"
এখানে মুহাম্মদ যুদ্ধকে জান্নাতের টিকিট বলে প্রচার করেছেন, যা লোভ দেখিয়ে মানুষকে হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত করার একটি কৌশল। এটি প্রমাণ করে যে তিনি একজন ম্যানিপুলেটর যুদ্ধপতি ছিলেন, যিনি ধর্মকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
সহীহ বুখারী, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ২৬৮ (সহীহ বুখারী ৩০২৯): "যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল।"
এটি দেখায় যে মুহাম্মদ যুদ্ধকে একটি চতুর খেলা হিসেবে দেখতেন, যেখানে প্রতারণা এবং হিংসা অনুমোদিত। তার যুদ্ধগুলোতে নারীদের দাসী বানানো এবং লুটপাটের ঘটনা এই হাদিসের প্রতিফলন, যা তার নৈতিক পতনের স্পষ্ট প্রমাণ।
সহীহ বুখারী, খণ্ড ১, বই ২, হাদিস ২৫: "আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তা বলে, তাহলে তাদের জান এবং মাল আমার থেকে নিরাপদ হবে, ইসলামী আইন ব্যতীত।"
এই হাদিসে মুহাম্মদ স্পষ্টভাবে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ধর্মান্তরণের জন্য জোরপূর্বক হিংসাকে অনুমোদন করে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, বরং জবরদস্তির মাধ্যমে ছড়ানোর একটি হিংসাত্মক মতাদর্শ, যা মুহাম্মদের যুদ্ধপতি চরিত্রকে উন্মোচিত করে।
সহীহ মুসলিম, খণ্ড ৫, বই ৩২, হাদিস ১৭৩১এ: "কাফিরদের বিরুদ্ধে আকস্মিক আক্রমণ করা জায়েজ, যারা এখনো ইসলামের দাওয়াত পাননি।"
এই হাদিসে মুহাম্মদ অজানা লোকদের উপর লুটপাটমূলক আক্রমণকে অনুমোদন করেছেন, যা একজন লুটেরা যুদ্ধপতির মতো আচরণ। যুক্তিবাদীরা এটিকে দেখে বুঝতে পারেন যে, মুহাম্মদের যুদ্ধগুলো ধর্ম প্রচারের নামে অর্থনৈতিক লাভের জন্য ছিল, যা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
সহীহ মুসলিম, খণ্ড ৫, বই ৩২, হাদিস ১৭৬৩: "জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি, এবং যুদ্ধে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা।"
এখানে মুহাম্মদ মৃত্যুকে গৌরবময় করে যুদ্ধকে উত্তেজিত করেছেন, যা আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের মূল অনুপ্রেরণা। এটি তার ম্যানিপুলেটিভ প্রকৃতির প্রমাণ, যেখানে তিনি অনুসারীদেরকে লোভ দেখিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যা একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক নেতার সাথে মেলে না।
সহীহ বুখারী, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৫০ (সহীহ বুখারী ২৭৮৩): "একজন লোক জিজ্ঞাসা করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! সর্বোত্তম আমল কী?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ এবং তার রাসূলে বিশ্বাস করা।' লোকটি জিজ্ঞাসা করল, 'তারপর কী?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর পথে জিহাদ করা।'"
এই হাদিসে মুহাম্মদ যুদ্ধকে বিশ্বাসের পর সর্বোচ্চ আমল বলে প্রচার করেছেন, যা শান্তি এবং অহিংসার পরিবর্তে হিংসাকে প্রাধান্য দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের মূলে যুদ্ধপ্রিয়তা রয়েছে, যা মুহাম্মদের ক্ষমতালোভী চরিত্রের ফল।
এই হাদিসগুলো লজিক্যালভাবে দেখলে বোঝা যায় যে মুহাম্মদের ধর্ম ছিল না শান্তির, বরং ক্ষমতা দখলের একটি টুল। তিনি তার অনুসারীদেরকে যুদ্ধে লোভ দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন, যা একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক নেতার চরিত্র নয়। এমন হাদিসগুলো ইসলামকে একটি হিংসাত্মক মতাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যা মানবতার জন্য অভিশাপস্বরূপ।
বিখ্যাত ইসলামিক ইতিহাসবিদ, আল্লামা ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায় ওয়ান নিহায়া' চতুর্থ খন্ড, ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ১৯৬-১৯৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, ইমাম নাসাঈ বলেছেন, ঈসা ইব্ন ইউনুস জনৈক সাহাবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ যখন পরিখা খননের নির্দেশ দিলেন তখন পরিখা খননকারীদের সন্মুখে একটি পাথর এসে পড়ল । তাতে খনন কার্য বন্ধ হয়ে গেল। মুহাম্মদ উঠে শাবল হাতে নিলেন এবং পাথরটিকে ভেঙে দিলেন। হযরত সালমান বললেন, ইয়া মুহাম্মদ আমি দেখেছি, আপনি যতবারই আঘাত করেছেন ততবারই বিদ্যুতের মত আলো জ্বলে উঠেছে । মুহাম্মদ বললেন, সালমান! তুমি কি তা দেখেছ ? তিনি বললেন জ্বী হা, যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আমি তা দেখেছি। মুহাম্মদ বললেন, আমি যখন প্রথমবার আঘাত করি তখন পারস্যের কিসরার মাদায়েন ও আশেপাশে বহু শহর আমার নিকট তুলে ধরা হয়েছিল । আমি স্বচক্ষে সেগুলো দেখেছি। উপস্থিত সাহাবীগণ রললেন, ইয়া মুহাম্মদ! দু'আ করুন, আল্লাহ্ যেন ওইগুলোর উপর আমাদেরকে বিজয়ী করে দেন। আমরা যেন ধন-সম্পদ গনীমতের মাল রূপে পেতে পারি এবং নিজ হাতে ওদের শহর নগর পদদলিত করতে পারি।মুহাম্মদ সে দুআ করলেন। তিনি বললেন, আমি যখন দ্বিতীয়বার আঘাত করি তখন রোমক সম্রাট কায়সারের রাজধানী এবং তার আশেপাশে অবস্থিত শহরগুলো আমার নিকট তুলে ধরা হয়। আমি স্বচক্ষে ওহীগুলো দেখেছি তাঁরা বললেন, ইয়া মুহাম্মদ আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন ওইগুলো আমাদের করায়ত্ত করে দেন। আমরা যেন ওদের ধন-সম্পদ ও ছেলে মেয়েদেরকে গনীমতের মালরূপে পেতে পারি এবং ওদের নগর শহরগুলি পদানত করতে পারি । রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু'আ করলেন।
আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ-এর চতুর্থ খণ্ডের ২০১ পৃষ্ঠায়ও স্পষ্ট যে, মুহাম্মদ এবং তার সাহাবীদের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল লুটতরাজ। এখানে বলা আছে, মূসা ইব্ন উকবা বলেন, বনু কুরায়যা গোত্রের সংবাদ শুনে মুহাম্মদ কাপড়ে মাথা ঢেকে শুয়ে পড়লেন, দীর্ঘক্ষণ তিনি এ অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে শায়িত দেখে লোকজন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও শংকিত হয়ে পড়ল । তারা বুঝতে পারল যে, বনু কুরায়যার ব্যাপারে ভাল সংবাদ আসেনি । এরপর মুহাম্মদ মাথা তুললেন এবং বললেন, সকলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয়ের সুসংবাদ গ্রহণ কর । ভোরবেলা উভয় পক্ষ মুখোমুখি হল ৷ তীর ও পাখর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল । রাবী সাঈদ ইব্ন মুসায়্যিব (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন বলেছিলেন, “হে আল্লাহ্! আমি আপনার দেয়া ওয়াদা ও অঙ্গীকার পূর্ণ করার প্রার্থনা জানাচ্ছি । হে আল্লাহ্! আপনি যদি চান যে, আপনার ইবাদত করা হবে না । তবে তাই হবে” ইব্ন ইসহাক বলেন, এ সময়ে এক দারুণ পরীক্ষা উপস্থিত হয় । লোকজনের মনে প্রচন্ড ভীতির সঞ্চার হয় ৷ শক্ত পক্ষ এগিয়ে আসে তাদের উর্দ্ধাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল থেকে। আমর ইব্ন আওফ গোত্রের মুআত্তাব ইব্ন কুশায়র বলে উঠে, মুহাম্মাদ তো আমাদেরকে রোমক ও পারস্য সম্রাটের ধন-সম্পদ ভোগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ আমাদের সঙ্গীরা এখন পায়খানায় যাওয়ার নিরাপত্তাও পাচ্ছেন না।
এই বর্ণনাগুলো যুক্তিসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মুহাম্মদের যুদ্ধগুলো ধর্মীয় প্রচারের পরিবর্তে লুটপাট এবং যৌন লোভের উপর ভিত্তি করে ছিল। তার সাহাবীরা স্পষ্টভাবে ধন-সম্পদ এবং নারীদের গনীমত হিসেবে পাওয়ার দোয়া চেয়েছেন, যা একটি নৈতিকভাবে পতিত চরিত্রের প্রমাণ।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ], পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৫৭. তায়িফের যুদ্ধ। হাদিস ৪৩২৪. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল, এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম যে, সে (হিজড়া ব্যক্তি) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়া (রাঃ)-কে বলছে, হে ‘আবদুল্লাহ! কী বল, আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের উপর বিজয় দান করেন তা হলে গাইলানের কন্যাকে নিয়ে নিও। কেননা সে (এতই কোমলদেহী), সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফিরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৮৫) এই হাদিস দেখে স্পষ্ট যে, যুদ্ধের লোভ ছিল নারীদের দাসী বানানো এবং যৌনতা ভোগ করা, যা মুহাম্মদের নৈতিক পতনের প্রমাণ।
হাদীস সম্ভার ২০/ (আল্লাহর পথে) জিহাদ, হাদিস নম্বর ১৯০০, ইবনে উমার কর্তৃক বর্ণিত, মুহাম্মদ বলেছেন, আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীকবিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।
মুসনাদ আহমাদ ১৮৭০৪-এ বলা হয়েছে: "আমি যুদ্ধের নবী, তাই আমি যোদ্ধা।" এই উদ্ধৃতিগুলো লজিক্যালভাবে দেখলে বোঝা যায় যে, মুহাম্মদ জীবিকা এবং ক্ষমতার জন্য যুদ্ধকে তার মূল অস্ত্র বানিয়েছেন, যা একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক নেতার সাথে মেলে না।
কুরআনের সাক্ষ্য:
কুরআন, যা মুহাম্মদের কথিত 'আল্লাহর বাণী' বলে দাবি করা হয়, তাতে অসংখ্য আয়াত রয়েছে যা অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং হত্যার উস্কানি দেয়। এগুলো দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, বরং একটি যুদ্ধপ্রিয় মতাদর্শ। নিম্নে আরও কয়েকটি উদাহরণ যুক্ত করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো: সুরা মুহাম্মদ, আয়াত ৪: "অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সাথে মুকাবিলা কর তখন ঘাড়ে আঘাত কর, অবশেষে যখন তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত করবে তখন তাদেরকে মজবুতভাবে বাঁধ; তারপর হয় অনুকম্প, নয় মুক্তিপণ।"
এই আয়াতে মুহাম্মদ তার অনুসারীদেরকে অবিশ্বাসীদের গলা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন, যা একটি নির্মম এবং বর্বর নির্দেশ। এটি প্রমাণ করে যে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রচারের পরিবর্তে হিংসা দিয়ে ধর্ম ছড়াতে চেয়েছেন। এমন নির্দেশ কোনো সত্যিকারের নবীর হতে পারে না; এটি একজন যুদ্ধপতির কথা।
সুরা তাওবাহ, আয়াত ৫: "অতঃপর যখন অবকাশ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে হত্যা করো এবং বন্দী করো এবং অবরোধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে ওঁত পেতে বসো।"
এই আয়াত সরাসরি অবিশ্বাসীদের হত্যা করার নির্দেশ দেয়, যা ইসলামের হিংসাত্মক প্রকৃতির স্পষ্ট প্রমাণ। মুহাম্মদ এই নির্দেশ দিয়ে তার অনুসারীদেরকে একটি হত্যাকারী দলে পরিণত করেছেন, যা আজকের জিহাদী সন্ত্রাসের মূল অনুপ্রেরণা। যুক্তিবাদীরা এটিকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করলেও, এর ভাষা স্পষ্টভাবে আক্রমণাত্মক।
সুরা তাওবাহ, আয়াত ২৯: "তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।"
এখানে মুহাম্মদ খ্রিস্টান এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন শুধুমাত্র তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে। এটি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার চরম উদাহরণ, যা আজকের বিশ্বে জিহাদী সন্ত্রাসের মূল অনুপ্রেরণা। এমন আয়াত দেখে বোঝা যায় যে ইসলাম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবর্তে জোর করে ধর্মান্তরিত করার পক্ষে।
সুরা আনফাল, আয়াত ১২: "যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদেরকে ওহী করলেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং তোমরা মুমিনদেরকে দৃঢ়তা দাও। আমি কাফিরদের অন্তরে ভয় ঢেলে দেব। অতএব ঘাড়ের উপর আঘাত কর এবং তাদের প্রত্যেক আঙ্গুলে আঘাত কর।"
এই আয়াতে 'ভয় ঢেলে দেওয়া' এবং গলা কাটার নির্দেশ দেখে বোঝা যায় যে, ইসলাম সন্ত্রাসবাদকে উত্তেজিত করে। মুহাম্মদ এই নির্দেশ দিয়ে তার ধর্মকে একটি ভীতিকর মতাদর্শে পরিণত করেছেন।
সুরা বাকারাহ, আয়াত ১৯১: "আর তোমরা তাদেরকে হত্যা কর যেখানে তাদেরকে পাবে এবং তাদেরকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে।"
এই আয়াত অবিশ্বাসীদের যেকোনো স্থানে হত্যা করার অনুমতি দেয়, যা ইসলামের আক্রমণাত্মক প্রকৃতির প্রমাণ। যুক্তিসম্মতভাবে, এটি শান্তির পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডকে প্রচার করে।
সুরা আল-ইমরান, আয়াত ১৫১: "আমি শীঘ্রই কাফিরদের অন্তরে ভয় ঢেলে দেব, কারণ তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছে যার জন্য আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।"
এই আয়াত সন্ত্রাস ছড়ানোর নির্দেশ দেয়, যা মুহাম্মদের যুদ্ধপ্রিয়তার আরেক প্রমাণ।
এই আয়াতগুলো লজিক্যালভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে মুহাম্মদ ধর্ম প্রচারের জন্য হিংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা একটি নৈতিকভাবে অসম্মানজনক কাজ। কোনো সত্যিকারের নৈতিক নেতা এমন নির্দেশ দিতেন না। এগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, এবং এটি প্রমাণ করে যে ইসলামের মূলে হিংসা রয়েছে।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, কুরআন ও হাদিসের প্রমাণ এবং যুক্তিসম্মত বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, মুহাম্মদের নেতৃত্বে ইসলাম একটি হিংসাত্মক ও লুটেরাভিত্তিক মতাদর্শ হিসেবে গড়ে উঠেছে। তিনি ধর্মের নামে যুদ্ধ, লুটপাট ও ক্ষমতার লোভকে প্রচার করেছেন, যা একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক নেতার চরিত্রের সাথে মেলে না। এই নির্মম সত্য ইসলামকে মানবতার জন্য অভিশাপ হিসেবে প্রমাণ করে, যা আমি দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি।

Comments
Post a Comment