কাবার কালো পাথর চুম্বন করা মূর্তিপূজার সমতুল্য
ইসলামী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মক্কার কাবায় অবস্থিত কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ) চুম্বন একটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ এবং যুক্তিহীন রীতি, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী দাবির সাথে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করে। এই পাথরকে চুম্বন করা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রাক-ইসলামী পৌত্তলিকতার একটি প্রমান, যা মুহাম্মদ তার নিজস্ব রাজনৈতিক সুবিধার্থে অব্যাহত রেখেছিল।
ইতিহাস, বিজ্ঞানীদের গবেষণা, কুরআন-হাদিসের উল্লেখ, ইসলামী পণ্ডিতদের মতামত এবং অন্যান্য ধর্মের সাদৃশ্যের আলোকে দেখলে স্পষ্ট হয় যে এই পাথর চুম্বন মুহাম্মদের নবুয়তকে একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে প্রকাশ করে, যা সত্যিকারের একেশ্বরবাদ থেকে দূরে।
কালো পাথরের উৎপত্তি প্রাক-ইসলামী যুগে হয়েছিল, যখন আরব উপদ্বীপের পৌত্তলিক জাতিরা কাবার স্থানকে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে পূজা করত। এই পাথরটি প্রাক-ইসলামী পৌত্তলিক যুগে ওই স্থানে পূজিত হত। কাবায় প্রাক-ইসলামী যুগে ৩৬০টি পৌত্তলিক মূর্তি রাখা ছিল, এবং কালো পাথরটি তার পূর্ব কোণে স্থাপিত ছিল। এটি সেমিটিক ঐতিহ্যের 'বাইটিল' (পবিত্র পাথর) এর অংশ ছিল, যা আকাশী দেবতাদের সাথে যুক্ত ছিল, যেমন হুবাল। প্রাক-ইসলামী আরবরা এটিকে চুম্বন করে বা স্পর্শ করে ভক্তি প্রদর্শন করত, এবং এটি উর্বরতা বা বলিদানের সাথে যুক্ত ছিল। কাবা নিজেই একটি পৌত্তলিক তীর্থস্থান ছিল, যেখানে নাবাতিয়ান, কুরাইশ এবং অন্যান্য জাতিরা তীর্থযাত্রা করত।
ইসলামী যুগে প্রবেশ করার পর মুহাম্মদ ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে কাবা পুনর্নির্মাণের সময় এই পাথরটিকে তার বর্তমান স্থানে স্থাপন করে। কুরাইশ জাতির মধ্যে বিবাদ হলে মুহাম্মদ একটি কাপড়ে পাথরটি রেখে সবাইকে ধরতে বলে এবং নিজে স্থাপন করে, যা তার রাজনৈতিক কৌশলের প্রমাণ।
৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করে এটিকে লাঠি দিয়ে স্পর্শ করে। মুহাম্মদ ৩৬০ টি পৌত্তলিক মূর্তি ধ্বংস করলেও এই পাথরটিকে রেখে দেয়। এটি একটি স্পষ্ট অসঙ্গতি, যদি ইসলাম পৌত্তলিকতাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে কেন এই পাথরটি রাখা হল?
এটি দেখায় যে মুহাম্মদ তার পূর্ববর্তী সংস্কৃতির অংশগুলোকে ইসলামে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা তার নবুয়তের সত্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে। পাথরটি বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া অবরোধে ভাঙা, ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে কারমাতিয়ানরা এটিকে চুরি করে নিয়ে যায় এবং ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ফিরিয়ে দেয় তখন এটি সাত টুকরো হয়ে যায়। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এটি কোনো ঐশ্বরিক সুরক্ষিত বস্তু নয়, বরং একটি সাধারণ পাথর।
ইসলামী ঐতিহ্যে এটিকে বেহেস্ত থেকে নেমে আসা বলে দাবি করা হয়, যা আদম বা ইব্রাহিমের সাথে যুক্ত, কিন্তু এই দাবি ঐতিহাসিকভাবে অস্পষ্ট এবং পৌত্তলিক কল্পকাহিনীর সাথে মিলে যায়। বাস্তবে, এটি প্রাক-ইসলামী পৌত্তলিকদের দ্বারা ব্যবহৃত অনেক 'বাইটিল' এর একটি, এবং মুহাম্মদের জন্মের আগে থেকেই এই পাথর উপাসনা করা হত।
কালো পাথরের পূজা অন্যান্য ধর্মের পাথর-কেন্দ্রিক মূর্তিপূজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রাচীন সেমিটিক ধর্মাবলম্বীরা পবিত্র পাথরগুলোকে (বাইটিল) পূজা করত, যা প্রায়শই কালো এবং উল্কাপিণ্ডের মতো ছিল। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন সিরিয়ায় এলাগাবালাস নামক একটি কালো পাথর পূজিত হত, যা রোমান সম্রাট এলাগাবালাস রোমে নিয়ে যান। এছাড়া, পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বীরা প্রায়শই উল্কাপিণ্ডকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। কিছু সমালোচক এটিকে হিন্দু ধর্মের শিবলিঙ্গের সাথে তুলনা করেন, যেখানে পাথর-কেন্দ্রিক পূজা প্রচলিত, এবং প্রাক-ইসলামী আরবে নবগ্রহ পূজার সাথে মিল আছে। খ্রিস্টধর্ম বা ইহুদি ধর্মে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, প্রাক-ইসলামী আরবে ইহুদি-খ্রিস্টান-পৌত্তলিক মিশ্রণে পাথর পূজা ছিল।
ইসলাম নিজেকে একেশ্বরবাদী বলে দাবি করলেও এই অভ্যাসটি সেই দাবির সাথে বিরোধী। মুহাম্মদ এই রীতিকে অব্যাহত রেখে ইসলামকে তার পূর্ববর্তী ধর্মের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে, যা তার নবুয়তকে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করে। এটি দেখায় যে ইসলাম কোনো নতুন একেশ্বরবাদ নয়, বরং পুরনো পৌত্তলিকতার একটি সংশোধিত রূপ।
কালো পাথর চুম্বনের বিষয়টি সরাসরি মূর্তিপূজার সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ এটি একটি নির্জীব পাথরকে ভক্তি প্রদর্শন করে। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয় যে মুহাম্মদ এটিকে চুম্বন করেছে, কিন্তু এটি কোনো আল্লাহর আদেশ বলে উল্লেখ নাই, বরং পৌত্তলিকতার প্রমান। উমর ইবন খাত্তাবের হাদিসে স্বীকার করা হয়েছে যে এটি সাধারণ পাথর, তবুও মুহাম্মদের কারণে চুম্বন করা হয়। এই যুক্তি দুর্বল: যদি এটি সাধারণ পাথর হয়, তাহলে কেন চুম্বন করা? এটি ইসলামের দ্বিচারিতা প্রকাশ করে। তবুও, লক্ষ লক্ষ মুসলিম এটিকে চুম্বন করে, যা মূর্তিপূজার সমতুল্য। যদি আল্লাহর প্রতি নামাজ উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কেন কাবার দিকে মুখ করতে হবে? আল্লাহকি অন্য কোনো দিকে নাই?
এছাড়া, মুসলিমরা কাবার দিকে নামাজ পড়ে, যার কোণে কালো পাথর স্থাপিত। এটি মূর্তিপূজার সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ কাবা একটি ভৌতিক বস্তু এবং তার দিকে মুখ করে প্রার্থনা করা একটি মূর্তির দিকে প্রার্থনার মতো। ইসলামী ব্যাখ্যায় এটিকে কেবল দিকনির্দেশ (কিবলা) বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি পাথরটিকে কেন্দ্র করে। হজ্জের সময় তাওয়াফে কাবাকে সাতবার প্রদক্ষিণ করা পৌত্তলিক অনুষ্ঠানের সাথে মিলে যায়। যদি ইসলাম মূর্তিপূজাকে নিষিদ্ধ করে, তাহলে কেন একটি পাথর-কেন্দ্রিক স্থানকে প্রার্থনার কেন্দ্রবিন্দু করা হয়? এটি একটি স্পষ্ট দ্বিচারিতা, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী দাবিকে ভেঙে ফেলে। মুহাম্মদ পৌত্তলিক মূর্তি ধ্বংস করেছে, কিন্তু এই পাথরটিকে রেখে দিয়ে তার অনুসারীদেরকে একই ধরনের অভ্যাসে লিপ্ত করেছে। এটি মুহাম্মদের একটি মৌলিক ভুল, যা ইসলামকে অযৌক্তিক করে তোলে।
হজ্জে প্রতি বছর ২ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী অংশগ্রহণ করে, এবং কালো পাথর চুম্বনের জন্য ভিড়ের কারণে অনেক ঘটনা ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালের মিনা স্ট্যাম্পেডে ৭৬৯ জনেরও বেশি লোক মারা যায় এবং ৯৩৪ জন আহত হয়। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে একটি নির্জীব পাথরের প্রতি এমন অন্ধ ভক্তি কতটা বিপজ্জনক এবং অযৌক্তিক। মুহাম্মদের এই রীতি অব্যাহত রাখা ইসলামের একটি মৌলিক দুর্বলতা প্রকাশ করে, যা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
ইসলামী পণ্ডিতরা কালো পাথরকে স্বর্গীয় উত্তরাধিকার হিসেবে বর্ণনা করে, যা আদম বা ইব্রাহিমের সাথে যুক্ত। তারা দাবি করে যে পাথরটি মানুষের পাপের কারণে কালো হয়ে গেছে, এবং হজ্জের সময় চুম্বন করলে দোয়া কবুল হয়। মুফতি মেনকের মতো পণ্ডিতরা এটিকে বিশ্বাসের প্রতীক বলেন, এবং উমরের হাদিস উল্লেখ করে বলেন যে এটি মূর্তি নয়, বরং মুহাম্মদের অনুসরণ। ড. শাবির আলীসহ অনেকে এটিকে আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু বলেন, যা কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দেবে।
কিন্তু এই বক্তব্যগুলো যুক্তিহীন এবং অসঙ্গতিপূর্ণ। বেহেস্ত থেকে নেমে আসার দাবি ঐতিহাসিকভাবে অস্পষ্ট এবং পৌত্তলিক কল্পকাহিনীর সাথে মিলে যায়। মুহাম্মদ কাবায় ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করলেও এটিকে রেখে দেয়, যা তার একেশ্বরবাদী দাবির সাথে বিরোধী। যদি এটি সাধারণ পাথর হয়, তাহলে চুম্বন করা দ্বিচারিতা। উমরের হাদিস নিজেই স্বীকার করে যে এটির কোনো বিশেষত্ব নেই, তবুও ভক্তি প্রদর্শন করা হয়। এটি সরাসরি মূর্তিপূজার সমতুল্য।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ২৫/ হাজ্জ (হজ্জ), পরিচ্ছেদঃ ২৫/৫০, হাদিস ১৫৯৭. ‘উমার হতে বর্ণিত যে, সে হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বলল, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। মুহাম্মদকে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। (১৬০৫, ১৬১০, মুসলিম ১৫/৪১, হাঃ ১২৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৯৯)
এ থেকে বোঝা যায় যে এই কালো পাথরের কোনই মূল্য নাই, তবুও কোটি কোটি ধর্মান্ধ মুসলিম এটিকে চুম্বন করার জন্য জীবন দিতে রাজি থাকে। এই কালো পাথর চুম্বনের অভ্যাস ইসলামের কেন্দ্রস্থলে একটি গভীর ফাটল প্রকাশ করে। এটি প্রাক-ইসলামী পৌত্তলিকতার একটি অবশেষ, যা মুহাম্মদের নেতৃত্বে অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা তার নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যান্য ধর্মের সাদৃশ্য, বিজ্ঞানীয় গবেষণা, পণ্ডিতদের যুক্তিহীন বক্তব্য এবং হাদিসের অসঙ্গতি সবই প্রমাণ করে যে ইসলামের একেশ্বরবাদী দাবি এখানে ভেঙে পড়ে।
একটি নির্জীব পাথরকে এমন গুরুত্ব দেওয়া কোনো যুক্তিসম্মত ধর্মের সাথে খাপ খায় না। মুসলিমরা যদি সত্যিকারের একেশ্বরবাদ চান, তাহলে এই পৌত্তলিক অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। এটি মুহাম্মদের একটি গভীর ত্রুটি, যা ইসলামকে একটি মানবসৃষ্ট এবং অসঙ্গতিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে প্রমাণ করে।

Comments
Post a Comment