নবী মুহাম্মদ পৌত্তলিক দেবতা লাত, ওজ্জা ও মানাতকে সিজদা করেছিল

মুহাম্মদ যখন তার ধর্ম প্রচার শুরু করে, তখন থেকেই সে পৌত্তলিক দেবতাদের নিন্দা করে আয়াত নামাতে থাকে। এর ফলে কুরাইশ গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদ এবং তার হাশেমী গোত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বয়কট শুরু করে। এতে মুহাম্মদ এবং তার লোকেরা খুব কষ্টে পড়ে। এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য মুহাম্মদ কুরাইশদের সঙ্গে মিলমিশের উপায় খুঁজতে থাকে। তাই সে পৌত্তলিক দেবতাদের প্রশংসা করে সন্ধির চেষ্টা করে। সুরা নাজমে এই বিষয়ে সে তিনটি আয়াত নামায় এবং কুরাইশদের সামনে পড়ে শোনায়।

সুরা আন-নাজম, আয়াত ১৯-২১: তোমরা কি লাত এবং ওজ্জা নিয়ে ভেবে দেখেছ? আর তৃতীয় মানাত নিয়ে? তারা উড়ন্ত সারস পাখির মতো উঁচুতে উড়ে, তাদের মধ্যস্থতা অনুমোদিত।

এই কথা শুনে কুরাইশরা খুব খুশি হয়, কারণ মুহাম্মদ তাদের দেবী লাত, ওজ্জা এবং মানাতের প্রশংসা করেছে এবং সেগুলোকে মেনে নিয়েছে। আয়াত পড়া শেষ হতেই মুহাম্মদসহ সব মুসলিম, মুশরিক এবং উপস্থিত লোকেরা এই দেব-দেবীদের সামনে মাথা নত করে সিজদাহ করে। শুধু একজন বুড়ো সাহাবী, আল ওয়ালিদ ইবনে আল মুগীরা, তিনি এটি করেনি। এই খবর কয়েক দিনের মধ্যে আবিসিনিয়ায় পৌঁছে যায়। সেখানে কিছু মুসলিম হিজরত করে ছিল, তারা শুনে যে মুহাম্মদ এবং কুরাইশদের মধ্যে মিল হয়েছে, তাই অনেকে মক্কায় ফিরে আসতে শুরু করে।

এই ঘটনার কথা প্রথমে পাওয়া যায় ইবনে ইসহাকের "সিরাত রাসুল আল্লাহ" গ্রন্থে। এই বইতে বলা হয়েছে যে মুহাম্মদ প্রথমে সুরা নাজমের ১৯-২১ আয়াতে লাত, ওজ্জা এবং মানাত নামে তিনটি পৌত্তলিক দেবীকে প্রশংসা করেছিলেন এবং তাদের মধ্যস্থতা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে, এই আয়াতগুলোতে পরিবর্তন আসে, যেখানে সেই প্রশংসার অংশটি মুছে ফেলা হয় এবং নতুন আয়াত যোগ করা হয়, যেমন "পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্য এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?"। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বলা হয় যে শয়তান এই প্রথম আয়াতগুলো মুহাম্মদের জিহ্বায় চাপিয়ে দিয়েছিল, আর পরে আল্লাহ সেগুলো সংশোধন করেছেন।

এই ঘটনার আরেকটি উল্লেখ আছে ইবনে সাদের "কিতাব আল তাবাকাত আল কাবীর" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৩২-২৩৩), যেখানে সুরা নাজম পড়ার সময় মুশরিক ও মুসলিমদের সিজদাহ এবং পরবর্তী পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তাওয়ারীখের ৬ষ্ঠ খণ্ডেও এই ঘটনার উল্লেখ আছে, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রথম আয়াত শয়তানের প্রভাবে এসেছিল এবং পরে সেগুলো বাতিল করে নতুন আয়াত নামানো হয়।

সহীহ বুখারীতে (আন্তর্জাতিক নম্বর ৪৮৬২, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯৮) এই ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত রেফারেন্স পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে যে মুহাম্মদ সুরা নাজম পড়ার সময় সিজদাহ করে, আর তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানুষ সবাই সিজদাহ করে।

কিন্তু মুহাম্মদ শীঘ্রই বুঝতে পারে যে এটি তার ভুল ছিল। পৌত্তলিক দেবতাদের মেনে নিলে তার একেশ্বরবাদের ধর্ম শেষ হয়ে যাবে, তার নবীত্বের কোনো মানে থাকবে না। এতদিনের পরিশ্রম বৃথা যাবে। তাই সে তার সিদ্ধান্ত বদলায়। ২১ নম্বর আয়াত "তারা উচ্চে উড়ন্ত সারস পাখির ন্যায়, তাদের মধ্যস্থতা অনুমোদিত" মুছে ফেলে এবং তার জায়গায় নতুন আয়াত নামায়: "পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্য এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?"। আরও কিছু আয়াত যোগ করা হয়।

তবে এমন হঠাৎ পরিবর্তন সবাই মেনে নেবে না। লোকেরা সন্দেহ করবে। তাই একটা কারণ দেখাতে হবে। মুহাম্মদ চতুরতার সঙ্গে শয়তানকে দোষ দেয়। বলে যে লাত, ওজ্জা এবং মানাতের প্রশংসার আয়াতটি জিব্রাইল নামায়নি, শয়তান তার জিহ্বা চালিয়ে সেটা বলিয়ে দিয়েছে! অতীতে সব নবীদের সঙ্গেও শয়তান এমন করেছে। তাই এটি নতুন কিছু নয়, চিন্তা করার দরকার নেই। এই অজুহাত দিয়ে কুরআনে নতুন আয়াত নামায়:

সুরা হজ্ব, আয়াত ৫২: আমি তোমার আগে যত রাসুল এবং নবী পাঠিয়েছি, তারা যখন কিছু কল্পনা করেছে, তখন শয়তান তাতে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। পরে আল্লাহ শয়তানের মিশ্রণ মুছে দিয়েছে। তারপর আল্লাহ তার আয়াতগুলোকে স্থির করে দিয়েছে। আল্লাহ জ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাময়।

এভাবে মুহাম্মদ যখন যা চাইত, কুরআনে তা নামিয়ে নিত বা মুছে ফেলত, এবং তার জন্য নতুন যুক্তি দাঁড় করাত। এটি দেখায় যে কুরআন তার নিজস্ব সুবিধামতো তৈরি হয়েছে। কারণটা কী, আপনারা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন?

মুহাম্মদের সময়ে কুরআনের কিছু অংশ কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং পৌত্তলিক দেবতাদের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনা যা "শয়তানের আয়াত" নামে পরিচিত। 

কুরআনের সুরা আন-নাহলের ১০১ নম্বর আয়াত এবং সুরা বাকারার ১০৬ নম্বর আয়াত। এই দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে কুরআন লেখার সময় কিছু অংশ পরিবর্তন করার দরকার পড়েছিল। আল্লাহ কিছু আয়াত মুছে ফেলত বা মুহাম্মদকে ভুলিয়ে দিত, তারপর সেগুলোর জায়গায় নতুন আয়াত নামাত।

এই নতুন আয়াতগুলোকে বলা হয়েছে যে সেগুলো আগেরগুলোর থেকে ভালো বা সমান। এখন প্রশ্ন উঠে, যদি আল্লাহ সবকিছু জানে এবং সে নিখুঁত, তাহলে কেন প্রথমে খারাপ বা কম ভালো আয়াত নামানো হলো যা পরে মুছে ফেলতে হবে?

এটি কি একজন সত্যিকারের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মানায়? নাকি এটি মুহাম্মদের নিজস্ব কৌশল? এই আয়াতগুলোতে আরও বলা হয়েছে যে এই পরিবর্তনের কারণে লোকেরা কুরআনকে আল্লাহর কথা বলে বিশ্বাস করেনি; তারা বলত যে মুহাম্মদ নিজের মন থেকে কথা বলছে। এই অভিযোগগুলো খুবই যৌক্তিক মনে হয়। আর এই অভিযোগের উত্তরে কুরআনে বলা হয়েছে যে আল্লাহ নিজের আয়াত সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন, তোমরা কিছু জানো না। এটি কি একটি হাস্যকর যুক্তি নয়? এটি তো কোনো সত্যিকারের ব্যাখ্যা নয়, শুধু একটা অজুহাত।

সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নিয়ে যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তার হাদিসের রেফারেন্স সহীহ বুখারীতে পাওয়া যায়। সহীহ বুখারী, ভলিউম ৬, বুক ৬০, হাদিস নম্বর ১১৭ (ইংরেজি ভার্সন) এবং বাংলা ভার্সনে আধুনিক প্রকাশনী: ৪৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ৪৫৯৮। এই হাদিসে বর্ণিত আছে যে, মুহাম্মদ সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত পড়ে শোনান। এই আয়াতে বলা হয়েছিল যে যারা জিহাদে যায়, তারা ঘরে বসে থাকা লোকদের থেকে উত্তম। এটি শুনে একজন অন্ধ সাহাবী, যার নাম ইবনে উম্মে মাকতুম, আপত্তি করে। তিনি বলেন যে তিনি অন্ধ হওয়ায় জিহাদে যেতে পারেন না, তাহলে কেন তাদের সমান মর্যাদা দেওয়া হবে না? তার এই কথার পরপরই আল্লাহ আয়াতটি পরিবর্তন করে নতুন আয়াত নামান, যেখানে বলা হয় যে যারা বিনা কারণে জিহাদে যায় না, তারাই কম মর্যাদার, কিন্তু অক্ষম ব্যক্তিরা এর ব্যতিক্রম।

এই হাদিসটি দেখায় যে মুহাম্মদের সময়ে কুরআনের আয়াত মানুষের আপত্তির ভিত্তিতে পরিবর্তন করা হতো। এটি প্রশ্ন তোলে যে এটি কি সত্যিই আল্লাহর বাণী, নাকি মুহাম্মদের সুবিধামতো বদলানো হয়েছে?

আপনি যখন কোনো মাজারে বা মূর্তির সামনে কাউকে সিজদাহ করতে দেখেন, তখন তো আপনার মন কাঁপে, কারণ ইসলামের ভিত্তি একেশ্বরবাদ। কিন্তু মুহাম্মদের মতো একজন নবী এটি বুঝল না? সে তার দলবল নিয়ে পৌত্তলিক দেবতাদের সামনে সিজদাহ করে ফেললো । এমন সাধারণ জ্ঞানহীন ব্যক্তি কি নবী হওয়ার যোগ্য?

মুহাম্মদ যখন বুঝল যে সন্ধির জন্য সিজদাহ করা ভুল ছিল, তাহলে সে আয়াত মুছে শয়তানকে দোষ দিল। ধরুন আমরা মেনে নিলাম যে আয়াতটি শয়তানের ছিল। কিন্তু এটি কি সমস্যা সমাধান করে? কুরআনের ১৭:৮৮-এ বলা হয়েছে যে মানুষ এবং জিন মিলেও কুরআনের মতো আয়াত রচনা করতে পারবে না। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যায় যে শয়তানের কথায় মুহাম্মদ আল্লাহর কথা ভেবে সিজদাহ করেছে। অর্থাৎ শয়তানের কথা আল্লাহর কথার সমান, কারণ মুহাম্মদ নিজে পার্থক্য করতে পারেনি। তাহলে কি বলা যায় না যে আল্লাহ তার চ্যালেঞ্জে শয়তানের কাছে হেরে গেছে?

এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে ইসলামের এই দিকগুলো যুক্তিহীন এবং মানুষের তৈরি। মুহাম্মদের কর্মকাণ্ড দেখায় যে সে একজন সাধারণ মানুষ ছিল, যে তার সুবিধামতো ধর্ম তৈরি করেছে। আপনাদের মতামত জানান কমেন্টে। ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন