ইসলাম ও মুহাম্মদের শিক্ষা মানুষকে জানোয়ারে পরিণত করে
একজন ভালো মানুষের গুণাবলী কি? আমরা যদি একজন মানুষকে ভালো বলে বিবেচনা করতে চাই, সাধারণত এই গুণাবলী তার মধ্যে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- সততা: সত্য বলা এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকা।
- দয়া: অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা দেখানো।
- সম্মান: সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ।
- দায়িত্বশীলতা: নিজের কাজ ও প্রতিশ্রুতি পালন করা।
- ধৈর্য: কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত ও স্থির থাকা।
- ন্যায়বিচার: সবার প্রতি নিরপেক্ষ ও সমান আচরণ।
- ক্ষমাশীলতা: অন্যের ভুল মেনে নিয়ে ক্ষমা করা।
- উদারতা: নিজের সম্পদ বা সময় অন্যের জন্য ব্যয় করা।
কিন্তু ইসলাম ও মুহাম্মদের শিক্ষা মানুষকে জানোয়ারে পরিণত করে। কিভাবে? নিচে বিস্তারিত আলোচনা করে তা আপনাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।
ইসলামী শিক্ষা, বিশেষ করে কুরআন এবং হাদিসে বর্ণিত মুহাম্মদের নির্দেশাবলী, মানুষের মধ্যে মানবিকতা এবং নৈতিকতার পরিবর্তে হিংসা, বর্বরতা এবং অমানবিক আচরণকে উত্সাহিত করে। এই শিক্ষাগুলো মানুষকে জানোয়ারের মতো করে তোলে, যেখানে হত্যা, নির্যাতন এবং বৈষম্যকে আল্লাহর আদেশ হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়। যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোরানে বর্ণিত আয়াত এবং হাদিসগুলো শুধু ঐতিহাসিক সংঘর্ষের কারণ নয়, বরং আধুনিক যুগেও মানুষের মনকে বিষাক্ত করে, তাদেরকে সভ্যতার পরিবর্তে জংলী আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রতিবেদনে, কুরআন এবং হাদিসের সুনির্দিষ্ট উদ্ধৃতি ব্যবহার করে এই যুক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে, যাতে স্পষ্ট হয় যে ইসলামী শিক্ষা মানুষকে মানুষ থেকে জানোয়ারে রূপান্তরিত করে।
কুরআনে বর্ণিত হিংসা এবং নির্যাতনের আহ্বান
কুরআনের বিভিন্ন সুরায় অবিশ্বাসীদের প্রতি হিংসার আহ্বান করা হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে জানোয়ারের মতো আচরণকে প্ররোচিত করে। উদাহরণস্বরূপ, সুরা আল-মায়িদাহ (৫:৩৩) বলে, “যারা আল্লাহ এবং তার রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, তাদের শাস্তি হলো মৃত্যু, হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কাটা বা দেশ থেকে নির্বাসন। এই শাস্তি তাদের জন্য এই দুনিয়ায় অপমান এবং আখিরাতে তাদের জন্য ভয়ানক যন্ত্রণা।”
এই আয়াতটি যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি শুধু শাস্তির কথা বলে না, বরং একটি বর্বর নির্যাতন পদ্ধতিকে আল্লাহর নির্দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। মানুষের হাত-পা কাটা এমন একটি কাজ যা জানোয়ারের মতো নিষ্ঠুরতাকে উত্সাহিত করে, এবং এটি ইসলামী সমাজে নৈতিকতার পরিবর্তে ভয় এবং হিংসাকে প্রধান করে তোলে।
একইভাবে, সুরা আল-বাকারাহ (২:১৯১) বলে, “তাদেরকে যেখানে পাও সেখানে হত্যা করো এবং যেখান থেকে তারা তোমাদের তাড়িয়েছে সেখান থেকে তাদের তাড়াও। কারণ ফিতনা হত্যার চেয়ে অনেক খারাপ। পবিত্র মসজিদে তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যদি না তারা তোমাদের উপর আক্রমণ করে। যদি তারা করে, তাহলে তাদের সাথে যুদ্ধ করো, এটাই অবিশ্বাসীদের পুরস্কার।”
এখানে হত্যাকে একটি পুরস্কার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে সহনশীলতার পরিবর্তে প্রতিহিংসার মনোভাব জাগায়। লজিক্যালি বলতে গেলে, এমন শিক্ষা মানুষকে জানোয়ারের মতো করে, যেখানে হত্যা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে।
সুরা আত-তাওবাহ (৯:৫) আরও স্পষ্টভাবে বলে, “পবিত্র মাসগুলো শেষ হলে, যারা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে সেই বহুঈশ্বরবাদীদেরকে যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের ধরো, অবরোধ করো এবং প্রত্যেক পথে তাদের জন্য অপেক্ষা করো। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ পড়ে এবং যাকাত দেয়, তাহলে তাদের মুক্ত করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।”
এই আয়াতটি হত্যাকে একটি কৌশলগত নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা মানুষকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতায় পরিণত করে। যুক্তির দিক থেকে, এটি শান্তির পরিবর্তে যুদ্ধকে প্রাধান্য দেয়।
অনুরূপভাবে, সুরা আত-তাওবাহ (৯:৪১) বলে, “হালকা অস্ত্র এবং ভারী অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাও, এবং তোমাদের সম্পদ এবং জীবন দিয়ে আল্লাহের পথে সংগ্রাম করো।”
এটি জিহাদকে একটি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করে, যা শারীরিক যুদ্ধকে উত্সাহিত করে। এমন নির্দেশ মানুষের মধ্যে যুদ্ধপ্রিয়তা জাগায়, যা তাদেরকে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
মুহাম্মদের হাদিসগুলো আরও স্পষ্টভাবে হিংসাকে মহিমান্বিত করে। সহিহ আল-বুখারি (২৮১৮), মুহাম্মদ বলেছে, “জেনে রাখো যে জান্নাত তলোয়ারের ছায়ায় রয়েছে।”
এটি যুদ্ধকে জান্নাতের পথ হিসেবে বর্ণনা করে, যা মানুষকে শহীদ হওয়ার জন্য উত্সাহিত করে। যুক্তিসঙ্গতভাবে, এমন শিক্ষা মানুষের মধ্যে হিংসাকে আল্লাহর পুরস্কার করে তোলে, ফলে তারা অমানবিক হয়ে ওঠে। এটি ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে দাবি করার সাথে সরাসরি বিরোধিতা করে।
সহিহ বুখারি (৬৯১৫) বলে, মুহাম্মদের নির্দেশে একজন মুসলিমকে অমুসলিম হত্যার প্রতিশোধে হত্যা করা যায় না। এটি মুসলিম এবং অমুসলিমের মধ্যে বৈষম্য প্রতিষ্ঠিত করে, যা নৈতিকতার পরিবর্তে বৈষম্যকে উত্সাহিত করে।
ধর্মত্যাগের শাস্তি নিয়ে সহিহ আল-বুখারি (৩০১৭) বলে, মুহাম্মদ বলেছে, “যে তার ধর্ম পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।” এটি স্বাধীনতার পরিবর্তে মৃত্যুকে নির্দেশ করে, যা মানুষকে অমানুষ করে তোলে।
সূরা আন-নিসা (৪:৮৯) বলে, “তারা চায় যে তোমরা তাদের মতো অবিশ্বাস করো যাতে তোমরা সমান হয়ে যাও। তাই তাদের মধ্যে থেকে কোনো মিত্র নেও না যতক্ষণ না তারা আল্লাহের পথে হিজরত করে। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরায়, তাহলে তাদের ধরো এবং যেখানে পাও হত্যা করো এবং তাদের মধ্যে থেকে কোনো মিত্র বা সাহায্যকারী নেও না।” এটি ধর্মত্যাগীদের হত্যাকে সমর্থন করে, যা মানুষের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। (রেফারেন্স: কুরআন ৪:৮৯; কুরআন ৯:৫)
সুরা আত-তাওবাহ (৯:৭৩) বলে, “হে নবী! অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তাদের সাথে কঠোর হও। জাহান্নাম হবে তাদের বাসস্থান। কতটা খারাপ গন্তব্য!”
সূরা মুহাম্মদ (৪৭:৪) বলে, “তাই যখন তোমরা অবিশ্বাসীদের সাথে [যুদ্ধে] মিলবে, তাদের গলায় আঘাত করো যতক্ষণ না তোমরা তাদের উপর হত্যাকাণ্ড ঘটাও, তারপর তাদের বন্ধন শক্ত করো, এবং পরে হয় অনুগ্রহ করো বা মুক্তিপণ নাও যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা ফেলে।”
ইসলাম এবং মুহাম্মদের শিক্ষা মানবতার জন্য একটি বিষাক্ত কলঙ্ক, যা শুধু হিংসা, বর্বরতা এবং অমানবিকতাকে উত্সাহিত করে। মুহাম্মদ, যিনি নিজেকে নবী দাবি করেছেন, তার শিক্ষাগুলো মানুষকে জানোয়ারে পরিণত করেছে, যেখানে হত্যা, নির্যাতন এবং ধর্মত্যাগীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা আল্লাহর আদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিষাক্ত মতাদর্শ মানুষের সভ্যতাকে ধ্বংস করে, এবং এটি প্রত্যাখ্যান করা প্রতিটি যুক্তিবাদী মানুষের কর্তব্য। ইসলামের মতো একটি ধর্ম, যা শান্তির পরিবর্তে যুদ্ধ আর ঘৃণার বীজ বপন করে, তা কেবল ঘৃণারই যোগ্য।

Comments
Post a Comment