ইসলামী পশ্চাদপদতার একটি জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে হিজাব, যা নারীদের দাসত্বের প্রতিনিধিত্ব করে, বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করা উচিত। এই মধ্যযুগীয় প্রথা, যা নারীদের শরীর ও মনকে শৃঙ্খলিত করে, আধুনিক সমাজের জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য কলঙ্ক। ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি দেয় যে হিজাব "পছন্দের" ব্যাপার, কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতিগত নিপীড়নের একটি হাতিয়ার, যা পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যকে শক্তিশালী করে। এই প্রবন্ধে আমরা কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করব কেন হিজাব বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ হওয়া উচিত এবং ইসলামী পশ্চাদপদতার এই প্রতীক কীভাবে মানবাধিকারের জন্য হুমকি।
প্রাক-ইসলামী যুগ: পর্দার পুরানো কুসংস্কার
হিজাবের মতো পর্দা প্রথা ইসলামের আগেও ছিল, এবং এটি ছিল সমাজের উচ্চবর্গের নারীদের দাসত্বের একটি প্রাচীন প্রতীক। খ্রিস্টপূর্ব ১৩শ শতাব্দীতে মেসোপটেমিয়ায় আসিরিয়ান আইনে উচ্চবর্গের নারীদের পর্দা পরতে বাধ্য করা হতো, যাতে তাদের দাসী বা বেশ্যা থেকে আলাদা করা যায় (Keddie, 1991)। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে অভিজাত নারীরা মাথায় কাপড় পরতো, যা ছিল তাদের সম্পদ ও পুরুষের অধীনতার চিহ্ন (Llewellyn-Jones, 2003)। বাইজান্টাইন খ্রিস্টান নারীরাও ইহুদি প্রথার প্রভাবে পর্দা গ্রহণ করেছিল, যা ছিল তাদের ধর্মীয় দাসত্বের প্রকাশ (Herrin, 1987)।
প্রাক-ইসলামী আরবে, জাহিলিয়া যুগে, পর্দা সাধারণ ছিল না, তবে মক্কা ও মদিনার কিছু ধনী নারী এটি পরতো, সম্মান ও পুরুষের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে (Ahmed, 1992)। এই প্রথাগুলো ইসলামের জন্মের আগেই প্রমাণ করে যে পর্দা কোনো ঐশ্বরিক আদেশ নয়, বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটি কুৎসিত সৃষ্টি।
ইসলামী ইতিহাসে হিজাবের বিবর্তন: পশ্চাদপদতার ধারাবাহিকতা
মুহাম্মদের মৃত্যুর পর (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ), হিজাব ইসলামের বিস্তারের সাথে বিবর্তিত হয়। উমাইয়া (৬৬১–৭৫০) ও আব্বাসীয় (৭৫০–১২৫৮) যুগে, শহুরে নারীদের মধ্যে পর্দা আরও কঠোর হয়, বিশেষ করে দামাস্কাস ও বাগদাদের মতো শহরে। অভিজাত নারীরা মুখ ঢাকা (নিকাব) ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরতো, যা পারসিক ও বাইজান্টাইন প্রভাবের মিশ্রণ ছিল (El-Guindi, 1999)।
গ্রামীণ ও যাযাবর সম্প্রদায়ে পর্দা কম ছিল, কারণ শ্রম ও চলাফেরার প্রয়োজন ছিল। এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে হিজাব সবসময় স্থানীয় প্রথার সাথে মিশে গেছে, কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের নিয়ন্ত্রণ (Ahmed, 1992)।
মধ্যযুগে, হানাফি, মালিকি, শাফিঈ ও হাম্বলি মাযহাবের পণ্ডিতরা হিজাবের নিয়ম কঠোর করেন। বেশিরভাগ একমত ছিলেন যে নারীদের মাথা ও শরীর ঢাকতে হবে, তবে মুখ ও হাত ঢাকা নিয়ে বিতর্ক ছিল। হানাফি ও মালিকি মাযহাব মুখ দেখানোর অনুমতি দিলেও, কিছু শাফিঈ ও হাম্বলি পণ্ডিত পূর্ণ পর্দার পক্ষে ছিলেন (ইবন তাইমিয়া, ১৪শ শতাব্দী)। এই নিয়মগুলো নারীদের দাসত্বের ধারাবাহিকতা ছিল।
ঔপনিবেশিক যুগ ও আধুনিক হিজাব: প্রতিরোধের নামে পশ্চাদপদতা
১৯শ ও ২০শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতা মুসলিম অঞ্চলে হিজাবের প্রকৃতি পরিবর্তন করে। ফরাসিরা উত্তর আফ্রিকায় পর্দাকে পশ্চাদপদতার প্রতীক হিসেবে দেখতো এবং এটি নিরুৎসাহিত করতো, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধের জন্ম দেয় (Fanon, 1965)। তুরস্কে আতাতুর্ক ১৯২০-এর দশকে হিজাব নিষিদ্ধ করেন, যা ধর্মীয় পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ ছিল (Göle, 1996)।
কিন্তু ২০শ শতাব্দীতে ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলন, যেমন মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, হিজাবকে পশ্চিমা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে (Mahmood, 2005)। এটি হিজাবকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু এর মূলে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের একই পুরানো মানসিকতা।
হিজাব: নারী নিপীড়নের প্রতীক:
হিজাব নারীদের স্বাধীনতা হরণ করে এবং তাদের একটি নিয়ন্ত্রিত পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে। এটি ইসলামী সমাজে নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে। ইরানে, যেখানে হিজাব বাধ্যতামূলক, নারীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নির্মম শাস্তির সম্মুখীন হয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যু, যিনি হিজাব না পরার জন্য পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন, বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দেয় (BBC, 2022)। এটি কি স্বাধীনতা? এটি কি পছন্দ? না, এটি নিষ্ঠুর নিপীড়ন।
ইসলামী সমাজে নারীদের প্রায়শই হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়, এমনকি যখন তারা তা চায় না। সৌদি আরবের মতো দেশে, যেখানে শরিয়া আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, নারীদের পোশাকের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় (Human Rights Watch, 2023)। এই বাধ্যবাধকতা নারীদের স্বাধীন ইচ্ছাকে দমন করে এবং তাদের পুরুষদের অধীনস্থ করে। হিজাব কোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়; এটি একটি পুরুষতান্ত্রিক শাসনের হাতিয়ার।
ইসলামী পশ্চাদপদতা: আধুনিক বিশ্বের জন্য অগ্রহণযোগ্য
ইসলামী সমাজের পশ্চাদপদতা শুধু হিজাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি তাদের সামগ্রিক সংস্কৃতি ও আইনের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশে, যেখানে ইসলামী আইন প্রাধান্য পায়, নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার সীমিত। তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে (UN Women, 2023)। এই পশ্চাদপদতা কেবল নারীদেরই ক্ষতি করে না, বরং সমগ্র সমাজকে পিছিয়ে দেয়।
হিজাব এই পশ্চাদপদতার একটি দৃশ্যমান প্রতীক। এটি বিশ্বকে বলে যে ইসলামী সমাজ আধুনিকতা ও সমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফ্রান্সের মতো দেশ, যেখানে হিজাব সরকারি স্কুলে নিষিদ্ধ, ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও তাদের পদ্ধতি আরও কঠোর হওয়া উচিত (The Guardian, 2004)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত এই উদাহরণ অনুসরণ করা।
বিশ্বব্যাপী হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা
হিজাব নিষিদ্ধ করা কেবল নারীদের মুক্তির জন্য নয়, ইসলামী পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানোর জন্য। এটি বিশ্বকে দেখাবে যে আমরা আর মধ্যযুগীয় প্রথার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হব না। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া—সব দেশের উচিত একযোগে হিজাব নিষিদ্ধ করা এবং ইসলামী সমাজকে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করা।
কেউ কেউ বলতে পারে এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন। কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা কি নিপীড়নের অধিকার দেয়? না। হিজাব নারীদের উপর জোর করে চাপানো একটি প্রথা, এবং এটি কোনো স্বাধীন পছন্দ নয়। এটি নিষিদ্ধ করা মানবাধিকারের পক্ষে একটি জয়।
হিজাব বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করা উচিত কারণ এটি ইসলামী পশ্চাদপদতা ও নারী নিপীড়নের প্রতীক। এটি আধুনিক সমাজের মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এবং মানবাধিকারের জন্য হুমকি। বিশ্বের প্রতিটি দেশের উচিত এই প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ইসলামী সমাজকে বাধ্য করা যেন তারা আধুনিকতার সাথে খাপ খায়। আমরা আর পিছিয়ে থাকতে পারি না।
Comments
Post a Comment