মুহাম্মদের নারী লালসা ও কুরআনের সমর্থন
কুরআনে স্পষ্টভাবে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দিয়েছে যা সভ্য সমাজের মানবিক রীতির সাথে সাংঘর্ষিক। ঐতিহাসিকভাবে লক্ষ-কোটি মুসলিম বিশ্বাস করে আসছে যে ইসলাম নাবালিকা মেয়েদের বিয়েকে অনুমোদন করে। যা সূরা আত-ত্বলাক্ব, আয়াত ৪ এ বর্ণিত হয়েছে "তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।"
সুতরাং, আল্লাহ ঋতুস্রাব শুরু না হওয়া নারীদের জন্য, অর্থাৎ অল্পবয়সী মেয়েদের জন্য বিবাহ, তালাক এবং ইদ্দতের বিধান নির্ধারণ করেছেন।
কোরআন একটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত গ্রন্থ, যেখানে আল্লাহর শক্তিমত্তা, পূর্ববর্তী জাতিদের ঘটনা এবং অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন শাস্তির বহু বিবরণ রয়েছে। অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও নৈতিক ইস্যু, যেমন শিশু বিবাহ সম্পর্কে কোরআনের নীরবতা বিস্ময়কর। ফলস্বরূপ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অগণিত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অথচ, কোরআন নিজেই দাবি করে যে তার আয়াতসমূহ “সহজবোধ্য” (সূরাঃ আল-কামার আয়াত ১৭), “স্পষ্ট ও প্রকাশ্য” এবং “পথপ্রদর্শক” (সূরাঃ আন-নামাল আয়াত ১ ও ২)।
যদি আল্লাহ সর্বজ্ঞ হন এবং ভবিষ্যতের সবকিছু সম্পর্কে পূর্ববিদ্যা রাখেন, তবে তিনি কি জানতেন না যে শিশু বিবাহ নিয়ে সমাজে মতভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে? যদি তিনি জানতেন, তাহলে কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে সমর্থন কেন দেয়া হল?
৯ বছরের আয়শা আর ৫০ বছরের মুহাম্মদ
ইসলামে পিতা বা অভিভাবকের অধিকার রয়েছে কোনো মেয়ের সম্মতি ছাড়াই তার বিয়ে নির্ধারণ করার, এমনকি তার বয়স অল্প হলেও। এর ফলে ৫০ বছর বয়সী মুহাম্মদের সঙ্গে ৭ বছর বয়সী আয়েশার বিবাহ সম্পাদনের ঘটনাও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধতা পেয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের সামনে এক গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে: যখন একটি ধর্মগ্রন্থের স্পষ্টতা ও নির্দেশনায় ঘাটতি থাকে, তখন তার অনুসারীদের ভুল বোঝার দায় কার ওপর বর্তায়?
আয়েশার বিয়ের সময়কাল ও তার বয়স সম্পর্কিত বিবরণ একাধিক সহিহ হাদিসে উঠে এসেছে, যেমন:
সহিহ বুখারী (হাদিস ৬১৩০): আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।”
সহিহ মুসলিম (হাদিস ৩৩১১): আয়েশা বলেন, “নবী আমাকে বিয়ে করেন যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর; এবং যখন আমি তাঁর ঘরে যাই, তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। তখনো আমার পুতুল আমার সঙ্গে ছিল।”
এই প্রেক্ষিতে, আধুনিক অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদ দ্বিধায় পড়েন এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে, এই বর্ণনাগুলিকে উপেক্ষা করার কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু এসব কৌশল যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার বিকল্প হতে পারে না।
মুহাম্মদের নারী লালসা ও কুরআন হাদিসের সমর্থন
সহীহ বুখারী ৪৪২৫ এ আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেসব মহিলা নিজকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হেবাস্বরূপ ন্যাস্ত করে দেন, তাদের আমি ঘৃণা করতাম। আমি (মনে মনে) বলতাম, মহিলারা কি নিজেকে অর্পণ করতে পারে? এরপর যখন আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আপনি তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।” তখন আমি বললাম, আমি দেখছি যে, আপনার রব আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই পূরণ করেন।
স্বয়ং আয়শা বর্ণিত হাদিসে মুহাম্মদের নারী লালসা এবং আয়শার এ ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ পায়. আপনাদের কি মনে হয় না, মুহাম্মদ নিজেই কল্পকাহিনী রচনা করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছে?
রাস্তাঘাটে নারীদের দেখে কামাতুর হয়ে যেত কাম-পুরুষ মুহাম্মদ মুহাম্মদ। তখন দৌড়ে বাসায় গিয়ে জ্বালা মেটাতে হতো মুহাম্মদের। সহীহ মুসলিম ৩২৯৮-(৯/১৪০৩) এ বর্ণিত, কোন মহিলাকে দেখে কোন পুরুষের মনে যৌন কামনা জাগ্রত হলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে অথবা ক্রীতদাসীর সাথে গিয়ে মিলিত হয়। আমর ইবনু আলী (রহঃ), জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ এক মহিলাকে দেখলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব এর নিকট আসলেন। তিনি তখন তার একটি চামড়া পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন।
এই আলোচনাটি আমাদের আরও গভীর ও মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: কোরআন কি সত্যিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী, নাকি এর অস্পষ্টতা, নিরবতা ও সীমাবদ্ধতা ইঙ্গিত করে যে এটি একটি মানবিক সৃষ্টি, যা মুহাম্মদ নিজেই রচনা করেছে?

Comments
Post a Comment