ইসলাম হিংস্রতা আর অশান্তির ধর্ম

ইসলাম যে একটি হিংস্রতা ও অমানবিক ধর্ম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোরানে সরাসরি অমুসলিমদের হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮৯ এ বলা হয়েছে, "তারা চায় যে, তারা যেরূপ অবিশ্বাস করেছে, তোমরাও সেরূপ অবিশ্বাস কর; ফলে তারা ও তোমরা একাকার হয়ে যাও। অতএব আল্লাহর পথে দেশত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের মধ্য হতে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তাদেরকে যেখানে পাও, সেখানেই গ্রেফতার করে হত্যা কর এবং তাদের মধ্য হতে কাউকেও বন্ধু ও সহায়রূপে গ্রহণ করো না।"

সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৫ এ বলা হয়েছে, "অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

একজন মুসলিমকে কোরান ও হাদিসে যেভাবে অমুসলিমদের নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি তাদের জন্য কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি, যা কেবল অমনোবিকই নয় বরং ধৃষ্টতার শামিল।

সহীহ বুখারী, ৬৯১৫, পরিচ্ছেদঃ ৮৭/৩১ এ বলা হয়েছে, "কাফেরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৭)"

নামাজ পড়তে না আসার কারণে মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে মুহাম্মদের সমর্থনে।

সহীহ বুখারী, ৬৫৭, পরিচ্ছেদঃ ১০/৩৪ এ বলা হয়েছে, "আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মুহাম্মদ বলেছে, মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।  আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৪)"

ইসলাম ও মুহাম্মদ কতটা নিচ ও স্বার্থপর হলে শুধুমাত্র ধর্ম ত্যাগ করার কারণে পুরো সম্প্রদায়কে হত্যার নির্দেশ দেয়া যায়।

সুনান আবূ দাউদ, ৪৩০০,পরিচ্ছেদঃ ১ এ বলা হয়েছে , আহমদ ইব্ন মুহাম্মদ (রহঃ) .... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) ঐ সব লোকদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন, যারা মুরতাদ হয়েছিল। এ সংবাদ ইব্ন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পৌছলে, তিনি বলেনঃ যদি আমি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে আমি তাদের আগুনে জ্বালাতে দিতাম না। কেননা, মুহাম্মদ বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্ প্রদত্ত শাস্তির দ্বারা কাউকে শাস্তি দেবে না। অবশ্য আমি তাদেরকে আল্লাহ্র রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করতাম। কেননা, তিনি (মুহাম্মদ) বলেছেনঃ যদি কেউ দীন পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়, তবে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আলী (রাঃ) ইব্ন আব্বাস (রাঃ)-এর এ নির্দেশ শুনে বলেনঃ ওয়াহ্! ওয়াহ্! ইব্ন আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেহছেন। আর ইহাই নবীর নির্দেশ।

শুধু তাই নয়, মুহাম্মদকে কটুকথা বল্লে তাকেও হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কটুকথা বলার অপরাধে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং মুহাম্মদ তাতে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে।

সুনান আবূ দাউদ, ৪৩৬১, পরিচ্ছেদঃ ২ এ বলা হয়েছে, "ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক অন্ধ লোকের একটি উম্মু ওয়ালাদ’ ক্রীতদাসী ছিলো। সে মুহাম্মদকে গালি দিতো এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। এক রাতে সে যখন মুহাম্মদকে গালি দিতে শুরু করলো এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে লাগলো, সে একটি একটি ধারালো ছোরা নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে তাতে চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করলো। তার দু’ পায়ের মাঝখানে একটি শিশু পতিত হয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো। মুহাম্মদ লোকটিকে ডাকলে লোকটি মানুষের ভিড় ঠেলে কাঁপতে কাঁপতে সামনে অগ্রসর হয়ে মুহাম্মদ এর সামনে এসে বসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সেই নিহত দাসীর মনিব। গত রাতে সে আপনাকে গালাগালি শুরু করে এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বললে, আমি তখন একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে স্থাপন করে তাতে চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলি। মুহাম্মদ বলে তোমরা সাক্ষী থাকো, তার রক্ত বৃথা গেলো।"

যে ধর্ম সরাসরি মানুষ হত্যার নির্দেশ দেয় সে ধর্ম কিভাবে শান্তির ধর্ম হয়? ভেবে দেখুন, আজ যদি আপনি খ্রিস্টান বা হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করতেন, তাহলে জন্মসূত্রে আপনি অমুসলিম হতেন আর আপনাকে হত্যা করা মুসলিমদের জন্য জায়েজ করে দেয়া হয়েছে কোরানে। আপনি যদি মুসলিম হন, তাহলে আপনার লজ্জা হওয়া উচিত এবং সকলে মিলে এই ধর্ম আর মুহাম্মদকে বয়কট করা উচিত।

Comments

Popular posts from this blog

মানুষের কর্মের জন্য আল্লাহ দায়ী

নবী মুহাম্মদের আয়ের উৎস কী ছিল?

শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন