মুহাম্মদের নারীদের প্রতি লোভ ও ভণ্ডামি
সহিহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে আয়েশার সাত বছর বয়সে বিয়ে ও নয় বছরে সংসার শুরুর বিষয়টি আমার কাছে নৈতিক প্রশ্ন তুলে। আয়েশার বর্ণনায় (সহিহ বুখারী ৪৪২৫) তিনি নারীদের নিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান, আর সহিহ মুসলিম ৩২৯৮-এ এক নারীকে দেখে তাঁর যৌন কামনা জাগ্রত হওয়ার কথা শুনে আমি বিস্মিত হই। এমনকি যুদ্ধবন্দী নারী সফিয়্যাহকে ভোগের জন্য পছন্দ করার ঘটনা (সুনান আবু দাউদ ২৯৯৫) আমাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়: কোরআন কি সত্যিই ঈশ্বরের বাণী, নাকি মুহাম্মদের স্বার্থপূরণের জন্য মানবরচিত?
মুহাম্মদের ভণ্ডামি
৯ বছরের আয়শা আর ৫০ বছরের মুহাম্মদ
ইসলামে পিতা বা অভিভাবকের অধিকার রয়েছে কোনো মেয়ের সম্মতি ছাড়াই তার বিয়ে নির্ধারণ করার, এমনকি তার বয়স অল্প হলেও। এর ফলে ৫০ বছর বয়সী মুহাম্মদের সঙ্গে ৭ বছর বয়সী আয়েশার বিবাহ সম্পাদনের ঘটনাও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধতা পেয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের সামনে এক গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে: যখন একটি ধর্মগ্রন্থের স্পষ্টতা ও নির্দেশনায় ঘাটতি থাকে, তখন তার অনুসারীদের ভুল বোঝার দায় কার ওপর বর্তায়?
আয়েশার বিয়ের সময়কাল ও তার বয়স সম্পর্কিত বিবরণ একাধিক সহিহ হাদিসে উঠে এসেছে, যেমন:
সহিহ বুখারী (হাদিস ৬১৩০): আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।”
সহিহ মুসলিম (হাদিস ৩৩১১): আয়েশা বলেন, “নবী আমাকে বিয়ে করেন যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর; এবং যখন আমি তাঁর ঘরে যাই, তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। তখনো আমার পুতুল আমার সঙ্গে ছিল।”
এই প্রেক্ষিতে, আধুনিক অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদ দ্বিধায় পড়েন এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে, এই বর্ণনাগুলিকে উপেক্ষা করার কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু এসব কৌশল যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার বিকল্প হতে পারে না।
স্বয়ং আয়শা বর্ণিত হাদিসে মুহাম্মদের নারী লালসা এবং আয়শার এ ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ পায়. আপনাদের কি মনে হয় না, মুহাম্মদ নিজেই কল্পকাহিনী রচনা করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছে?
রাস্তাঘাটে নারীদের দেখে কামাতুর হয়ে যেত কাম-পুরুষ মুহাম্মদ মুহাম্মদ। তখন দৌড়ে বাসায় গিয়ে জ্বালা মেটাতে হতো মুহাম্মদের। সহীহ মুসলিম ৩২৯৮-(৯/১৪০৩) এ বর্ণিত, কোন মহিলাকে দেখে কোন পুরুষের মনে যৌন কামনা জাগ্রত হলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে অথবা ক্রীতদাসীর সাথে গিয়ে মিলিত হয়। আমর ইবনু আলী (রহঃ), জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ এক মহিলাকে দেখলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব এর নিকট আসলেন। তিনি তখন তার একটি চামড়া পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন।
যুদ্ধকালীন সময়েও মুহাম্মদের যৌনলালসা যায় না। যুদ্ধবন্দী নারীদের মধ্যে থেকে মুহাম্মদ নিজে নারী পছন্দ করে নিতেন ভোগের উদ্দেশে।
সুনান আবূ দাউদ ২৯৯৫ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আমরা খায়বারে আক্রমণ করি। আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করালেন তখন হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাহর সৌন্দর্যের কথা মুহাম্মদের কাছে বর্ণনা করা হয়। তিনি সদ্য বিবাহিতা ছিলেন এবং তার স্বামী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। মুহাম্মদ তাকে নিজের জন্য পছন্দ করলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ’আমরা সাদ্দুস-সাহবা নামক জায়গাতে পৌঁছলে তিনি মাসিক ঋতু থেকে পবিত্র হন। মুহাম্মদ তার সাথে নির্জনবাস করেন।
এই আলোচনাটি আমাদের আরও গভীর ও মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: কোরআন কি সত্যিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাণী, নাকি এর অস্পষ্টতা, নিরবতা ও সীমাবদ্ধতা ইঙ্গিত করে যে এটি একটি মানবিক সৃষ্টি, যা মুহাম্মদ নিজেই রচনা করেছে নিজের স্বার্থ পূরণ করার উদ্দেশ্যে?
.jpg)
Comments
Post a Comment